বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

ডলারের ‘ঝাপটায়’ রূপপুরের খরচ বাড়ল ২৬ হাজার কোটি টাকা, বাড়ছে প্রকল্পের মেয়াদও

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের খরচ বড় অংকের ধাক্কা খেল। ডলারের হিসাবে ব্যয় অপরিবর্তিত থাকলেও কেবল মুদ্রা বিনিময়ের হারের কারণে টাকার অংকে এই প্রকল্পের খরচ বেড়েছে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে প্রকল্পের সময়সীমা ২০২৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

আজ রোববার শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই সংশোধনীর অনুমোদন দেওয়া হয়।

ডলারের হিসাব ও টাকার অংক একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, রূপপুর প্রকল্পে রাশিয়ার ঋণের পরিমাণ ডলারে একদম ঠিক আছে, কিন্তু ২০১৫ সালে যখন চুক্তি হয়েছিল তখন প্রতি ডলারের দাম ছিল ৮০ টাকা। বর্তমানে সেই দর বেড়ে ১২২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই ৪২ টাকার ব্যবধানের কারণেই প্রকল্পের মোট ব্যয় এখন দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকায়। রাশিয়ার দেওয়া ১১ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার ঋণের বর্তমান বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা।

মেয়াদ বাড়ল কেন? পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, করোনা মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে ঋণ পরিশোধের জটিলতাসহ নানা কারণে প্রকল্পের কাজে দেরি হয়েছে। মূলত রাশিয়ার আগ্রহেই প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, রাশিয়ার ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে তা আমাদের কারণে নয়।

নির্ধারিত সময়ে কাজ না সারলে অর্থছাড় বন্ধ প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা রোধে কঠোর বার্তা দিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা। তিনি জানান, যেসব প্রকল্প আগামী জুন বা ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা, সেগুলো যদি নির্ধারিত সময়ে শেষ না হয়, তবে সরকার তাদের জন্য অর্থছাড় বন্ধ করে দেবে। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে কড়া চিঠি পাঠানো হবে।

নির্বাচনের আগে শেষ একনেক! আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আজকের একনেক সভাই সম্ভবত শেষ হতে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “রাজনৈতিক সরকার নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে অনেক প্রকল্প পাস করে, কিন্তু আমরা তা করছি না। মাঝখানে বিরতির কারণে অনেকগুলো জমে থাকা প্রকল্প আজ তোলা হয়েছে।” তবে জাতীয় প্রয়োজনে বিশেষ কোনো সভা হতে পারে কি না, তা পর্যালোচনার বিষয়।

আজকের সভায় রূপপুরসহ মোট ২৫টি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে, যার সম্মিলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩২ হাজার ১৮ কোটি টাকাই আসবে বিদেশি ঋণ ও সহায়তা থেকে।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button