‘স্যার’ নয়, আমাকে ‘ভাইয়া’ ডাকুন: চট্টগ্রামে তরুণদের মন জয় করলেন তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

রাজনীতিতে শিষ্টাচার আর আধুনিকতার এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ রোববার সকালে চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলে আয়োজিত ‘ইয়ুথ পলিসি টক’ অনুষ্ঠানে এক তরুণীর ‘স্যার’ সম্বোধনের জবাবে তিনি যা বললেন, তাতে মুহূর্তেই করতালি আর উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে পুরো মিলনায়তন।
এক নিমিষেই কাটল দূরত্বের দেয়াল অনুষ্ঠানে তাসনুবা তাশরি নামের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী প্রশ্ন করার সময় তারেক রহমানকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করেন। সাথে সাথে তাকে থামিয়ে দিয়ে স্মিত হাস্যে তারেক রহমান বলেন, “আপনারা আমাকে ‘ভাইয়া’ বলতে পারেন, অথবা ‘আংকেল’ বলতে পারেন। তবে আংকেল ডাকটি শুনতে খুব একটা পছন্দ করব না। ‘ভাইয়া’ বললেই ভালো লাগবে, ‘স্যার’ বলার দরকার নেই।” নেতার এমন অমায়িক আচরণে উপস্থিত চার শতাধিক তরুণের মাঝে থাকা জড়তা নিমেষেই কেটে যায়।
তারুণ্যের স্বপ্ন ও আগামীর পরিকল্পনা পলিসি ডায়ালগে তারেক রহমান তরুণদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার পথে নানা বাধার সমাধান নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।
উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণ: ছোট ও তরুণ উদ্যোক্তারা যেন কেবল ‘জামানত’ না থাকার কারণে পিছিয়ে না পড়েন, সেদিকে গুরুত্ব দিয়ে আইন সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও ‘স্টুডেন্ট লোন’: ভিসা ফি বা টিকিটের অভাবে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী বিদেশে পড়ার সুযোগ হারান। তাদের জন্য বিশেষ ‘স্টুডেন্ট লোন’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ: কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষাপট টেনে তিনি বলেন, বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া সব ক্ষেত্রে নিয়োগ হতে হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে। পাহাড়ি বা সমতলী নয়, পরিচয় হবে শুধুই ‘বাংলাদেশি’।

আধুনিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা তারেক রহমান ভোকেশনাল শিক্ষাকে ঢেলে সাজানোর ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যগামী কর্মীদের জন্য আরবি ভাষা ও চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হবে যাতে তারা দক্ষ হয়ে বিদেশে বেশি রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন। এছাড়া গ্রামে গ্রামে গিয়ে স্বাস্থ্য পরামর্শ দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী (যাদের ৮০-৮৫ শতাংশই নারী) নিয়োগের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।
জবাবদিহিতার রাজনীতি নীতির কথা কি কেবল প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে? এমন প্রশ্নে তারেক রহমানের স্পষ্ট উত্তর, “রাজনীতিতে জবাবদিহি আসে ভোটের মাধ্যমে। আমি যদি কাজ না করি, আপনারা সমর্থন সরিয়ে নেবেন। আপনাদের সমর্থন হারানো আমার জন্য কোনো সুসংবাদ হবে না।”
তরুণ প্রজন্মের সাথে এই সরাসরি সংলাপ কেবল রাজনৈতিক আলাপচারিতা নয়, বরং আগামীর বাংলাদেশ গড়ার এক নতুন সেতুবন্ধন হিসেবেই দেখছেন উপস্থিত শিক্ষার্থীরা।







