‘আমি আপনাদেরই সন্তান, আপনাদের হয়েই কাজ করতে চাই’: ভাষানটেকে তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

গত ১৫-১৬ বছরের ‘ধ্বংসস্তূপ’ থেকে বেরিয়ে এসে দেশ এখন এক বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তারেক রহমান। গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর ভাষানটেকে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, “মানুষ এমন একটি পরিবর্তন চায় যেখানে সমস্যার সমাধান মিলবে, নিরাপত্তা বাড়বে এবং তরুণেরা কর্মসংস্থানের ন্যায্য সুযোগ পাবে।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে তারেক রহমান তাঁর নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭ এর অন্তর্ভুক্ত ভাষানটেকের বিআরবি ময়দানে এই জনসভায় ভাষণ দেন।
ভোটারদের সাথে সরাসরি কথোপকথন ও প্রতিশ্রুতি
তারেক রহমানের এদিনের জনসভা ছিল বেশ ব্যতিক্রমী। প্রথাগত ভাষণের বদলে তিনি মঞ্চে উঠে দর্শকদের মধ্য থেকে সাধারণ মানুষদের ডেকে সরাসরি তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন।
-
বাসস্থান সমস্যা: জুয়েল নামে একজন ভ্যানচালককে কাছে ডেকে নিলে তিনি তাঁর থাকার জায়গার অভাব ও পুনর্বাসনের দাবি জানান। জবাবে তারেক রহমান বলেন, “আমি আপনাদেরই এলাকার সন্তান। ক্যান্টনমেন্টে বড় হয়েছি, তাই আপনাদের কষ্টগুলো আমি বুঝি। সুযোগ পেলে বস্তিবাসীদের স্থায়ী পুনর্বাসন হবে আমার অগ্রাধিকার।”
-
নারীদের কর্মসংস্থান: হেনা আক্তার ও শান্তা নামের দুই নারীর সমস্যার কথা শুনে তিনি বিএনপি সরকারের প্রস্তাবিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেন, যার মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের মা-বোনেরা সরাসরি সামাজিক সুরক্ষা পাবেন।
-
কৃষক ও শ্রমিক উন্নয়ন: কৃষি খাতের উন্নয়নে ‘কৃষি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে সার, বীজ ও ঋণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি।
তরুণ সমাজ ও ক্রীড়াঙ্গনে বড় সংস্কার
দেশের বেকার তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান এক নতুন রূপকল্প তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সবাই ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবে না। আমরা ক্রীড়া ব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজাতে চাই যেন একজন খেলোয়াড় পেশাদারিত্বের মাধ্যমে তাঁর জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।” সাবেক জাতীয় গোলরক্ষক আমিনুল হককে উদাহরণ হিসেবে টেনে তিনি ক্রীড়াঙ্গনের আমূল পরিবর্তনের কথা জানান। এছাড়া দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলে তাঁদের বিদেশে পাঠানোর জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
জবাবদিহিতার রাজনীতি ফেরার আহ্বান
তারেক রহমান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সংসদ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে জনগণের সেবকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। “ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে যারা এমপি হয়েছিলেন, তাঁরা আপনাদের পাশে ছিলেন না। কিন্তু জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার কখনও আপনাদের ছেড়ে যাবে না,” যোগ করেন তিনি।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মঞ্চে ওঠার পর থেকেই পুরো বিআরবি ময়দান স্লোগান ও করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। তারেক রহমান সবাইকে ১২ তারিখে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যতবার ধানের শীষ জিতেছে, ততবারই দেশের উন্নয়ন হয়েছে। এবারও উন্নয়ন ও পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিন।”







