বিভেদ নয়, ঐক্যের বাংলাদেশ গড়তে চায় জামায়াত: শফিকুর রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক | বগুড়া ও শেরপুর

“আমরা বিভক্তির বাংলাদেশ চাই না, আমরা চাই ঐক্যের বাংলাদেশ।”—বগুড়া ও শেরপুরের বিশাল জনসভায় এভাবেই নিজের রাজনৈতিক দর্শনের কথা ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার দুপুরে বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ এবং পরবর্তীতে শেরপুরের মহিপুর খেলার মাঠে আয়োজিত ১০-দলীয় ঐক্যের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিশ্রুতি
বগুড়াকে উত্তরবঙ্গের ‘রাজধানী’ হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এই ঐতিহ্যবাহী জনপদটি এখনো প্রাপ্য উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জামায়াতে ইসলামী দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হবে এবং এখানে একটি আধুনিক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “এটি কোনো দয়া নয়, জনগণের টাকায় জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে।”
পাচার হওয়া ২৮ লাখ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার
বিগত সাড়ে ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া ২৮ লাখ কোটি টাকার প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, “জনগণের টাকা যারা লুট করে বিদেশে পাচার করেছে, আমরা প্রয়োজনে পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা বের করে আনব।” তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতির ঝুড়ির তলা যারা ফুটো করে দিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে বিচার নিশ্চিত করা হবে। রাষ্ট্রীয় কোষাগারের একটি টাকাও অপচয় বা চুরি হতে দেওয়া হবে না।
চাঁদাবাজমুক্ত ও নিরাপদ বাংলাদেশ
জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দেশজুড়ে চলমান চাঁদাবাজির সংস্কৃতি কৃষক ও ভোক্তাদের ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি করছে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের কোথাও কোনো চাঁদাবাজের অস্তিত্ব থাকবে না। এছাড়া নারীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “মায়েরা ঘরে এবং পথে পূর্ণ নিরাপত্তা পাবেন। লম্পটদের কোনো জায়গা এই বাংলার মাটিতে হবে না।”
বেকার ভাতা নয়, দক্ষ জনশক্তি চাই
দেশের শিক্ষিত যুবকদের বেকার ভাতা দিয়ে ‘অপমানিত’ করতে চান না জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা যুবকদের বেকারের ফ্যাক্টরিতে পরিণত করতে চাই না। প্রতিটি শিক্ষিত যুবকের হাতকে আমরা দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যাতে তারা দেশে ও বিদেশে মর্যাদার সাথে আয় করতে পারে।”
প্রভু নয়, বন্ধুত্বের পররাষ্ট্রনীতি
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “বাংলাদেশ অন্য দেশের সাথে বন্ধুত্ব চায়, কিন্তু কোনো দেশের ‘প্রভুগিরি’ বরদাস্ত করবে না। জুলাই বিপ্লবে এ দেশের সন্তানরা আধিপত্যবাদকে লাল কার্ড দেখিয়েছে, সেই কার্ড আর কখনো সবুজ হবে না।”
সংবাদমাধ্যমের প্রতি আহ্বান
সবশেষে তিনি সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলুন। আমরা যদি সত্য থেকে বিচ্যুত হই, আমাদেরও ছাড় দেবেন না।”
জনসভা শেষে তিনি বগুড়ার বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেন।







