ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে থেকে ভূমি প্রতিমন্ত্রী: নেত্রকোনার দুর্গাপুর-কলমাকান্দায় আনন্দের জোয়ার
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

গ্রামের সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খোঁজখবর রাখতেন যে বাবার হাত ধরে রাজনীতিতে হাতেখড়ি, আজ সেই ছেলের কাঁধেই ন্যস্ত হলো পুরো দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনার গুরুদায়িত্ব। নেত্রকোনা-১ (সদর-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়ে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর শপথ নিয়েছেন। এই খবরে নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা জুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে।
মঙ্গলবার বিকেলে শপথ গ্রহণের পরপরই নির্বাচনী এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেন দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। অনেকে একে দেখছেন এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবে।
গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪৩ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন কায়সার কামাল। শপথ নেওয়ার পর প্রথম আলোর সাথে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “দল আমাকে যে গুরুদায়িত্ব দিয়েছে, তা আমি কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চাই। আমি শুধু একজন রাজনীতিবিদ নই, আমি জনগণের সেবক। জাতি, বর্ণ ও ধর্ম–নির্বিশেষে সবার সেবা করাই আমার মূল লক্ষ্য।”
নতুন প্রতিমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক যাত্রা বেশ দীর্ঘ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর শেষ করে লন্ডনে ব্যারিস্টার অ্যাট ল ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। তবে তার মূল অনুপ্রেরণা ছিলেন তার বাবা, প্রয়াত মোস্তফা কামাল মনছুর, যিনি নব্বইয়ের দশকে কলমাকান্দা সদর ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ছিলেন। বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে রাজনীতিতে আসা কায়সার কামালের দাদা ও নানাও জনপ্রতিনিধি ছিলেন।
কায়সার কামালের এই অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আন্দোলনের মাঠ থেকে উঠে আসা এই নেতাকে প্রতিমন্ত্রী করায় আমরা আনন্দিত। এটি সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করেছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারাও তাদের প্রিয় নেতার প্রতি ভরসা রাখছেন। কলমাকান্দার বাসিন্দা বিভাস সাহা বলেন, “তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, যারা অন্যায়–অত্যাচারের সাথে জড়িত, তিনি তাদের এমপি নন। তিনি সবার সেবক হিসেবে কাজ করবেন।” অন্যদিকে, আদিবাসী নেতা সুদীপ্ত হাজং আশা প্রকাশ করে বলেন, “একজন ব্যারিস্টার প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় এলাকার রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নসহ সামগ্রিক জীবনমান উন্নত হবে।”





