আগের সরকারের বিদায় জনগণই নিশ্চিত করেছে, গণভোটেও তারা নির্ভুল রায় দেবে: তৌহিদ হোসেন
নিজস্ব প্রতিবেদক

জনগণই আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটিয়েছে, আর আসন্ন গণভোটেও তারা দেশের ভবিষ্যতের জন্য সঠিক ও সাহসী সিদ্ধান্ত নেবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, মানুষ যদি অতীতের সংকটের পুনরাবৃত্তি না চায়, তবে তাদের সামনে এখন পরিবর্তনের পক্ষ নেওয়ার সুযোগ এসেছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত ‘জেলাভিত্তিক গণভোট প্রচারণা’ কর্মসূচিতে ভোটারদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সংকট থেকে স্থিতিশীলতার যাত্রা তৌহিদ হোসেন বলেন, “এই সরকার একটি বিশেষ ও ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব নিয়েছিল। তখন দেশ গভীর সংকটে নিমজ্জিত ছিল। সেই বিশৃঙ্খলা থেকে দেশকে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনাই ছিল আমাদের প্রথম চ্যালেঞ্জ।” তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য তিনটি—রাষ্ট্রীয় সংস্কার, জুলাই অভ্যুত্থানের বিচার নিশ্চিত করা এবং একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া।

সংস্কার ও গণভোটের গুরুত্ব সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, কাঠামোগত পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়, এর জন্য সময়ের প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই সরকার সংস্কার কমিশন গঠন করেছে এবং তাদের সুপারিশ অনুযায়ী একটি ‘চার্টার’ বা সনদ জনগণের সামনে পেশ করা হয়েছে। এখন দেশের মানুষ প্রকৃত পরিবর্তন চায় কি না, তা যাচাই করতেই এই গণভোটের আয়োজন। তিনি বলেন, “গণভোটে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ বলার সুযোগ আছে। জনগণ যদি ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করে, তবেই আমরা বুঝব মানুষ নতুন বাংলাদেশের পক্ষে।”
সাংস্কৃতিক আয়োজনে গণজোয়ার গণভোটের প্রচারণা উপলক্ষ্যে সোমবার রাতে স্থানীয় সি স্কয়ার মাঠে এক বিশাল কনসার্টের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। ‘তারুণ্যের সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান’ শিরোনামের এই আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় শিল্পী হাসান ও তাঁর ব্যান্ড, লিজা এবং রাজীব। তারুণ্যের এই উদ্দীপনা গণভোটের প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী, পুলিশ সুপার আবু ইউসুফসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে আবারও মনে করিয়ে দেন যে, দেশের মালিক জনগণ এবং তাদের রায়েই নির্ধারিত হবে আগামীর বাংলাদেশ কোন পথে হাঁটবে।







