বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

নাটোরে ভোটের মাঠে উত্তেজনা: জামায়াতের নারী কর্মীদের গায়ে হাত তোলার অভিযোগ বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

নির্বাচনী হাওয়ায় উত্তপ্ত নাটোর। তবে এবার অভিযোগের আঙুল কোনো বহিরাগত বা প্রতিপক্ষের দিকে নয়, বরং একই জোটের শরিকদের দিকে। নাটোর-২ (সদর) আসনে নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের ওপর চড়থাপ্পড় ও লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দলের তৃণমূল পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ঘটনার সূত্রপাত

বৃহস্পতিবার সকালে নাটোর সদর উপজেলার ছাতনি ইউনিয়নের ছাতনি সেন্টার মোড়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বেলা ১১টার দিকে জামায়াতের একদল নারী কর্মী ১০-দলীয় জোটের প্রার্থী ইউনুস আলীর (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পক্ষে লিফলেট বিলি ও গণসংযোগ করছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা তাঁদের পথ আগলে ধরেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে নারী কর্মীদের ওপর চড়থাপ্পড় মারা হয় বলে জামায়াত পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে কান্নার সুর

বিকেলে নাটোর মাদ্রাসা মোড়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের প্রার্থী ইউনুস আলী এবং জামায়াত নেতারা ব্যথিত কণ্ঠে ঘটনার বর্ণনা দেন। প্রচার কমিটির পরিচালক আতিকুল ইসলাম বলেন, “নারীরা যেখানে সম্মানের পাত্রী, সেখানে রাজনীতির নামে তাঁদের গায়ে হাত তোলা অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ। শুধু লাঞ্ছিত করেই ক্ষান্ত হয়নি, এলাকা থেকে আমাদের ব্যানার-ফেস্টুন সরিয়ে ফেলার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।”

বিএনপির সাফাই: ‘সন্দেহ থেকে বাধা’

তবে এই অভিযোগকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ। তাঁর দাবি, সেখানে কোনো নারী লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, “জামায়াতের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের বিকাশ নম্বর ও আইডি নম্বর সংগ্রহ করছিলেন। এতে স্থানীয়দের মনে টাকা দিয়ে ভোট কেনার সন্দেহ তৈরি হয়। গ্রামবাসী কেবল তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ও কাজে বাধা দিয়েছে।”

প্রশাসনের পদক্ষেপ

ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নাটোর সদর থানার পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্বাচনী মাঠের এই সংঘাত ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোটের ভেতরে এমন ফাটল নির্বাচনী ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রীয় নেতারা এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে আনতে পারেন কি না।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button