নির্বাচনী বিধি ভাঙার দায়: পঞ্চগড়ে সারজিস ও নওশাদ জমিরকে শোকজ
নিজস্ব প্রতিবেদক | পঞ্চগড়

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠ যখন উত্তপ্ত, ঠিক তখনই পঞ্চগড়-১ (সদর-তেঁতুলিয়া-আটোয়ারী) আসনে বড় ধরনের ধাক্কা খেলেন হেভিওয়েট দুই প্রার্থী। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির এবং ১০-দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারজিস আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।
আজ শনিবার বিকেলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান পৃথকভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে এই নোটিশ জারি করেন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের সশরীরে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
সারজিস আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ: অন্য দলীয় প্রধানের ছবি ও তোরণ
সারজিস আলমকে দেওয়া নোটিশে বলা হয়েছে, গত ২৩ জানুয়ারি পঞ্চগড়ের জনসভায় তিনি নিজ দলীয় প্রধান ব্যতীত অন্য দলীয় প্রধানকে স্বাগত জানিয়ে তোরণ, বিলবোর্ড ও ব্যানার স্থাপন করেছেন। আচরণ বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী, একজন প্রার্থী কেবল তাঁর নিজের দলীয় প্রধানের ছবি ও প্রচারসামগ্রী ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া, বিধি নিষেধ থাকা সত্ত্বেও তিনি তিনটি বিশাল তোরণ নির্মাণ করেছেন এবং রিটার্নিং কর্মকর্তাকে না জানিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
নওশাদ জমিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ: ম্যাজিস্ট্রেটকে বাধা ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ
অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী নওশাদ জমিরের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়:
-
অনুমোদিত আকারের চেয়ে বড় (৬ ফুট x ৩ ফুট) ফেস্টুন ব্যবহার করা হয়েছে।
-
প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ তোরণ ও ফেস্টুন অপসারণ করতে গেলে তাঁর কর্মী-সমর্থকেরা পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের কাজে বাধা দিয়েছেন এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন।
-
গভীর রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবৈধভাবে জমায়েত হয়ে সরকারি গণভোটের প্রচার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার হুমকি দিয়েছেন, যা বিধি ১৫ (গ)-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
পরবর্তী পদক্ষেপ
নোটিশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সারজিস আলমের মন্তব্য পাওয়া না গেলেও নওশাদ জমিরের নির্বাচনী এজেন্ট নওফেল জমির জানিয়েছেন, তাঁরা নোটিশটি পেয়েছেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লিখিত জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থানে পঞ্চগড়ের ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই একে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।







