
নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শরীফুল আলমের কাঁধে অর্পিত হলো দেশের অর্থনীতি সচল রাখার গুরুদায়িত্ব। প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হয়েই মন্ত্রিত্ব পাওয়া মুক্তাদীর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের।
দেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরণের পরিবর্তনের আভাস দিয়ে গঠিত হয়েছে নতুন মন্ত্রিসভা। দীর্ঘ আন্দোলনের পর ক্ষমতার পালাবদলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এবার বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদীরকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। একইসাথে, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরীফুল আলম।
প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই ক্যাবিনেটে স্থান পাওয়া খন্দকার মুক্তাদীর পেশাগত জীবনে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ছিলেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এই ব্যবসায়ী নেতা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে ২০১৬ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বাবা খন্দকার আবদুল মালিকও ছিলেন তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, “দল আমার ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে, আমি সততা ও নিষ্ঠার সাথে তা পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।” জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী আন্দোলনে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দেওয়ার পুরস্কার হিসেবেই দলের প্রতি তাঁর আনুগত্যের মূল্যায়ন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এপ্রিলে সিলেট বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।
অন্যদিকে, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম একইসাথে শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করবেন। কিশোরগঞ্জ-৬ আসন থেকে নির্বাচিত এই নেতা পরিচিত মুখ হলেও, তাঁর পারিবারিক ব্যবসাও বেশ আলোচিত। আশি ও নব্বইয়ের দশকের বিখ্যাত বিজ্ঞাপন “আলমের ১ নং পচা সাবান”-এর নেপথ্যের কারিগর তাঁর পরিবার। এছাড়া পচা শু কোম্পানি ও লং বিচ হোটেলের মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাঁদের।
প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম জানিয়েছেন, বুধবার সকালে তিনি সাভার স্মৃতিসৌধ এবং চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে সচিবালয়ে যোগদান করবেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সামনে এখন পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাজার সুবিধা নিশ্চিত করাই হবে নতুন নেতৃত্বের প্রধান পরীক্ষা।







