বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায়ের প্রতিবাদে বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি পাকিস্তানের! আইসিসিতে তীব্র অসন্তোষ
লাহোর | শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বিতর্কিত বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে এবার সরব হলো পাকিস্তান। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি আজ লাহোরে এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে এবং অতীতে ভারত ও পাকিস্তানকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেটা বাংলাদেশেরও প্রাপ্য। তিনি হুশিয়ারি দিয়েছেন, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ খেলতে দেওয়া না হলে পাকিস্তান দল টুর্নামেন্ট বর্জনের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে।
আইসিসির বিরুদ্ধে দ্বিমুখী আচরণের অভিযোগ
নাকভির মতে, আইসিসি দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের বোর্ড মিটিংয়েও একই কথা বলেছি। আপনারা দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করতে পারেন না, যেখানে একটি দেশ যখন ইচ্ছা যেমন খুশি সিদ্ধান্ত নিতে পারে, আর আরেক দেশের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিপরীত আচরণ করা হয়।”
গত ৪ জানুয়ারি ভারত সফরের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা জানিয়ে আইসিসিকে ভেন্যু বদলের অনুরোধ করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। কিন্তু ২১ জানুয়ারি বোর্ড সভার পর আইসিসি জানায়, বাংলাদেশকে পূর্বসূচি অনুযায়ী ভারতেই খেলতে হবে। ক্রিকইনফোর খবর অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যায় আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিবিকে জানিয়েছে যে তাদের জায়গায় বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদিও আইসিসি এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি, তবে এই খবর ক্রিকেট মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
এশিয়ান ক্রিকেটে সংহতির বার্তা
এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) প্রেসিডেন্টের দায়িত্বেও থাকা মহসিন নাকভি বাংলাদেশের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন, “আমরা মনে করি বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে এবং যে কোনো অবস্থায় তাদের বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দেওয়া উচিত। তারা ক্রিকেটের একটি বড় অংশীদার, তাদের প্রতি এই অবিচার করা উচিত নয়।” তার এই মন্তব্য এশিয়ান ক্রিকেট দেশগুলোর মধ্যে সংহতির একটি বার্তা বহন করছে।
পাকিস্তানের বিশ্বকাপ বর্জনের সম্ভাবনা: সরকারের হাতে সিদ্ধান্ত
গত কয়েকদিন ধরেই পাকিস্তানের গণমাধ্যমে দেশটির বিশ্বকাপ বর্জন নিয়ে জল্পনা চলছিল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিসিবি প্রধান জানান, এ সিদ্ধান্ত পাকিস্তান সরকার নেবে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী এখন দেশের বাইরে আছেন। তিনি ফিরে এলে আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারব। এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। আমরা সরকারের অধীন, আইসিসির নয়।”
নাকভি আরও জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশ পাকিস্তানের মতোই একটি সদস্য। আর আমাদের অবস্থান হচ্ছে যদি আপনারা পাকিস্তান ও ভারতের ক্ষেত্রে এই সুবিধা দিয়ে থাকেন, তাহলে বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই কাজ করা উচিত। এর মূল কারণ হলো, কোনো দেশ আরেকটি দেশকে নির্দেশ দিতে পারে না। আর যদি এই ধরনের নির্দেশ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে পাকিস্তানের অবশ্যই নিজস্ব অবস্থান থাকবে।”
পাকিস্তানের সম্ভাব্য বিশ্বকাপ বর্জন প্রসঙ্গে ‘প্ল্যান বি’ আছে কিনা, এমন প্রশ্নে রসিকতা করে নাকভি বলেন, “আগে সিদ্ধান্তটা আসুক; আমাদের প্ল্যান এ, বি, সি, ডি—সবই আছে।”
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া এবং পাকিস্তানের এই কড়া প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। আইসিসি এই পরিস্থিতি কিভাবে সামাল দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।







