ঘেরাও আতঙ্ক: নিরাপত্তার কারণে শেষ মুহূর্তে স্থগিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে’র যাত্রা
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় কাল রোববার যে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের প্রথম রাষ্ট্রায়ত্ত শরিয়াহভিত্তিক ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর যাত্রা শুরু হওয়ার কথা ছিল, নিরাপত্তার শঙ্কায় তা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। আমানতকারী ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের বড় একটি অংশের ‘ঘেরাও’ কর্মসূচির হুমকির মুখে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সতর্কতামূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কেন এই জরুরি স্থগিতাদেশ?
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, আগামীকাল রোববার সকাল ১০টায় এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. খায়রুজ্জামান মজুমদারের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আমানতকারী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুষ্ঠানস্থল ঘেরাও করার প্রকাশ্য ঘোষণা আসায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ বিকেলে অর্থ উপদেষ্টা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের মধ্যে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং আমানতকারীদের ক্ষোভের কথা মাথায় রেখে অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জোটবদ্ধ পাঁচ ব্যাংকের অতীত ও বর্তমান বিতর্ক
মূলত পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংককে একীভূত করে এই ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হচ্ছে। এই ব্যাংকগুলো হলো:
-
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক
-
গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
-
ইউনিয়ন ব্যাংক
-
এক্সিম ব্যাংক
-
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক
উল্লেখ্য যে, এই ব্যাংকগুলোর মধ্যে চারটিই ছিল চট্টগ্রামের বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে। অপরটি অর্থাৎ এক্সিম ব্যাংক ছিল বিএবি-র সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের অধীনে। তারা উভয়ই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ব্যাংকগুলোর বর্তমান তারল্য সংকট এবং পুরোনো ব্যবস্থাপনার প্রভাব নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে, যা এই ঘেরাও কর্মসূচির মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ব্যাংকটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় এই উদ্বোধনের মাধ্যমে ব্যাংকটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরুর কথা ছিল। বর্তমানে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্থগিত হওয়ায় ব্যাংকটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হওয়া নিয়ে এখন নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিল।
সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ইসলামী অর্থব্যবস্থায় রাষ্ট্রের অংশগ্রহণ বাড়ানো। তবে গ্রাহকদের আস্থার সংকট দূর করাই এখন নতুন এই ব্যাংকের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।







