২০ বছরের প্রতীক্ষার অবসান: লাল-সবুজ বাসে বন্দরনগরীতে তারেক রহমান, জনসমুদ্রে রূপ নিল চট্টগ্রাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম

আকাশে তখনো সন্ধ্যার রেশ কাটেনি। চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরের রানওয়ে ছুঁল ঢাকা থেকে আসা বিশেষ ফ্লাইটটি। দীর্ঘ ২০ বছর পর এই মাটিতে পা রাখলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে কেবল আগমণ নয়, বিমানবন্দর থেকে হোটেল র্যাডিসন ব্লু পর্যন্ত যাওয়ার পথটিই হয়ে উঠল এক বিশাল সংবর্ধনা যাত্রা।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে বুলেটপ্রুফ বাস বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে তারেক রহমান সরাসরি আরোহন করেন লাল-সবুজ রঙের একটি বুলেটপ্রুফ বাসে। বাসের গায়ে বড় অক্ষরে লেখা—‘সবার আগে বাংলাদেশ’। ২০ বছর আগে ২০০৫ সালে যখন তিনি এই শহরে এসেছিলেন, তখন তিনি ছিলেন দলটির তরুণ যুগ্ম মহাসচিব। আর আজ ২০২৬ সালে তিনি ফিরলেন দলের শীর্ষ কাণ্ডারি হিসেবে। জনতাকে শুভেচ্ছা জানাতে তিনি বাসের সামনের অংশে এসে দাঁড়ান, কাঁচের ওপাশ থেকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান অপেক্ষমাণ হাজারো মানুষকে।
পতেঙ্গা থেকে লালখান বাজার: জনসমুদ্রের গর্জন তারেক রহমানকে একনজর দেখার জন্য বিকেল থেকেই পতেঙ্গা সৈকত থেকে শুরু করে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে লালখান বাজার পর্যন্ত ভিড় জমিয়েছিলেন সাধারণ মানুষ ও নেতা-কর্মীরা। তাঁর গাড়িবহর যখন নবনির্মিত শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে যাচ্ছিল, তখন নিচে দাঁড়িয়ে থাকা জনতার স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে চারপাশ। বন্দরনগরীর মেয়র শাহাদাত হোসেন জানান, এটি কেবল রাজনৈতিক সফর নয়, এটি যেন ২০ বছরের জমে থাকা আবেগের বহিঃপ্রকাশ।
১৪ বছর পর পলোগ্রাউন্ডে ‘জিয়া পরিবার’ আগামীকাল রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পলোগ্রাউন্ড মাঠে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। সর্বশেষ ২০১২ সালে এই মাঠে বক্তব্য দিয়েছিলেন তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ ১৪ বছর পর একই মাঠে তাঁর সুযোগ্য সন্তানের ভাষণ শুনতে উন্মুখ হয়ে আছে চাটগাঁর মানুষ।
এক দিনে ৪ জেলায় ৬ জনসভা চট্টগ্রামের সমাবেশ শেষ করেই তারেক রহমানের গন্তব্য ফেনী ও কুমিল্লা। ফেনীর পাইলট স্কুল মাঠ এবং কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, সুয়াগাজী ও দাউদকান্দিসহ মোট চারটি সভায় যোগ দেবেন তিনি। ঢাকা ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরেও একটি জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
এক যুগেরও বেশি সময় নির্বাসন আর আইনি লড়াই শেষে দলের প্রধান হিসেবে তারেক রহমানের এই সফরকে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের ‘নতুন অধ্যায়’ হিসেবে দেখছে।







