বাবার মৃত্যু আর দীর্ঘ বিষণ্নতা পেরিয়ে গিটারে ফিরলেন ইব্রাহিম আহমেদ কমল
বিনোদন প্রতিবেদক, ঢাকা

বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতের ইতিহাসের এক কিংবদন্তি গিটারিস্ট ইব্রাহিম আহমেদ কমল। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে যার গিটারের জাদুতে মুগ্ধ হয়েছে এ দেশের তরুণ প্রজন্ম। তবে গত কয়েকটি বছর এই গুনী শিল্পীর জীবনে বয়ে গেছে এক বিশাল ঝড়। বাবার মৃত্যু আর শারীরিক অসুস্থতার জেরে দীর্ঘ সময় বিষণ্নতায় (ডিপ্রেশন) ডুবে ছিলেন তিনি। অবশেষে সব বাধা জয় করে আবারও প্রিয় গিটারে সুর তুলছেন ওয়ারফেজের এই অবিচ্ছেদ্য অংশ।

চল্লিশ বছরের এক জাদুকরী যাত্রা গতকাল বুধবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক দীর্ঘ পোস্টে কমল তার জীবনের উত্থান-পতনের গল্প শোনান ভক্তদের। ১৯৮৪ সাল থেকে শুরু হওয়া সেই যাত্রার স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, মাত্র ১৫-১৬ বছর বয়সে গিটার হাতে নিয়েছিলেন। এরপর ১৯৮৬ সালে প্রথম কনসার্ট এবং ১৯৮৭ সালে ব্যান্ডে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে শুরু হয় এক পেশাদার অধ্যায়। ১৯৯১ সালে ওয়ারফেজের অ্যালবাম যখন সুপারহিট হয়, তখন থেকেই কমল হয়ে ওঠেন এক প্রজন্মের আইকন।

ডিপ্রেশন ও জীবনের কঠিন মোড় কমল জানান, তার এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল তার বাবা-মায়ের। তবে ২০২৪ সালে বাবার প্রয়াণ তাকে মানসিকভাবে ভেঙে চুরমার করে দেয়। সেই সময়টা ছিল তার জীবনের অন্ধকারতম অধ্যায়। প্রচণ্ড বিষণ্নতা আর শারীরিক কিছু জটিলতার কারণে সংগীত থেকে অনেকটা দূরে সরে গিয়েছিলেন তিনি। তবে সম্প্রতি নিজেকে আবার গুছিয়ে নিয়েছেন তিনি। কমল বলেন, “হয়তো আগের মতো ক্ষিপ্রতায় পারা সম্ভব হবে না, তবে পরিমিত আর পরিণতভাবে ধীরে সুস্থে এখন আবার মিউজিক করছি।”

সংগীতই যখন সর্বস্ব চাকরি করার চিন্তা কখনও মাথায় আসেনি কমলের। সংগীত আর বন্ধুরাই ছিল তার পৃথিবী। তিনি কৃতজ্ঞতাভরে জানান যে, পারিবারিক স্বচ্ছলতার কারণে তাকে জীবিকার জন্য মিউজিকের বাইরে অন্য কিছু ভাবতে হয়নি। আর এই স্বাধীনতাই তাকে ওয়ারফেজের মতো ব্যান্ডের মাধ্যমে কালজয়ী সব সুর সৃষ্টির সুযোগ করে দিয়েছে। গত ৪০-৫০ বছর ধরে ৩০০ জন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গই ছিল তার সেরা প্রাপ্তি।
আগামীর স্বপ্ন পোস্টের শেষে কমল তার ভক্তদের জন্য আশার বাণী শুনিয়েছেন। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতাগুলো কেটে গেলেই ওয়ারফেজ ব্যান্ডের সঙ্গে আবারও আন্তর্জাতিক ট্যুরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন তিনি।







