‘আমাদের কোনো কার্ড নেই, আপনারাই আমাদের কার্ড’: উত্তরবঙ্গে জামায়াত আমিরের হুংকার
নিজস্ব প্রতিবেদক | রংপুর ও পঞ্চগড়

দেশের রাজনীতিতে যখন ‘ফ্যামিলি কার্ড’ আর প্রতিশ্রুতির ছড়াছড়ি, তখন একেবারেই ভিন্ন এক মানবিক আবেদন নিয়ে ভোটারদের সামনে হাজির হলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে উত্তরবঙ্গের জনসভাগুলোতে তিনি ঘোষণা করেছেন, “ভাই, আমাদের কাছে দেওয়ার মতো কোনো কার্ড নেই। আপনারাই আমাদের কার্ড। আপনাদের বুকে আমরা একটা ভালোবাসার কার্ড চাই।”
গতকাল শুক্রবার পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও রংপুরের বিশাল জনসভাগুলোতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১০-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের ব্যানারে আয়োজিত এই সভাগুলোতে জামায়াত আমিরের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে আগামীর বাংলাদেশের এক নতুন রূপরেখা।
উত্তরবঙ্গ হবে ‘কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী’ উন্নয়নের চাকা উল্টে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, এতকাল বলা হতো ‘টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া’, এখন উন্নয়ন শুরু হবে ‘তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ’ পর্যন্ত। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ক্ষমতায় গেলে মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে দেওয়া হবে। এই অঞ্চলকে ‘কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যেখানে কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার এবং আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া দেশের কোনো জেলা মেডিকেল কলেজবিহীন থাকবে না বলেও তিনি নিশ্চয়তা দেন।
পাচার হওয়া ২৮ লাখ কোটি টাকা ফেরানোর ঘোষণা দেশের অর্থনৈতিক সংকট ও লুটতরাজ নিয়ে জামায়াত আমির অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “বিদেশে পাচার হওয়া ২৮ লাখ কোটি টাকা চোরদের পেটের ভেতর থেকে বের করে আনা হবে। প্রতিটি পয়সা উদ্ধার করে জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে এবং ভবিষ্যতে কাউকে আর চুরির সুযোগ দেওয়া হবে না।”
নারী অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে নারীদের অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, “মায়েদের সম্মানের মূল্য আমাদের জীবনের চেয়েও বেশি। আমরা তাঁদের ঘরের কোণে বন্দী রাখব না, বরং শিক্ষা ও যোগ্যতায় সমৃদ্ধ এক নারী জাতি উপহার দেব, যাঁরা কর্মস্থলে ও যাতায়াতে পূর্ণ নিরাপত্তা পাবেন। তাঁরা হবেন আমাদের মাথার তাজ।”
ঐক্যবদ্ধ দেশ গড়ার তিন শর্ত রংপুরের জনসভায় ডাঃ শফিকুর রহমান একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে যারাই অংশ নিক না কেন, দেশ গড়ার স্বার্থে সবাইকে পাঁচ বছর এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হবে। তবে এর জন্য তিনটি কঠোর শর্ত পালন করতে হবে:
১. নিজেরা দুর্নীতি করবেন না এবং কোনো দুর্নীতিবাজকে আশ্রয় দেবেন না। ২. দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ৩. নেতাকে চোর বা ফ্যাসিস্ট বানায় এমন ‘৫৪ বছরের বস্তাপচা রাজনীতি’ বর্জন করতে হবে।







