জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু: কাঠগড়ায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ শীর্ষ নেতা
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির শীর্ষ সাত নেতার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিচারের প্রথম দিনেই ট্রাইব্যুনালে উঠে এসেছে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য, যেখানে এক বাবা তাঁর নিহত ছেলের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
বিচার কার্যক্রমের সূচনা ও সাক্ষীর জবানবন্দি এদিন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন মামলার সূচনা বক্তব্য লিখিতভাবে উপস্থাপন করেন। এরপরই মামলার প্রথম সাক্ষী এম এ রাজ্জাক তাঁর জবানবন্দি প্রদান করেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, তিনি বর্তমানে অবসর জীবনযাপন করছেন। কিন্তু গত ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই তাঁর পৃথিবীটা উল্টে যায়। ওই দিন কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নিয়ে মিরপুর-১০ এলাকায় মারা যান তাঁর প্রিয় সন্তান মো. আসিফ ইকবাল।
আবেগঘন কণ্ঠে সাক্ষী রাজ্জাক বলেন, “আমার ছেলে মনিপুর স্কুলে পড়ত, পাশাপাশি ‘দারাজ’-এ চাকরি করত। ১৯ জুলাই বন্ধুদের সাথে আন্দোলনে গিয়েছিল… আর ফেরেনি।”
সাক্ষীর এই জবানবন্দি গ্রহণের পর প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল আজকের মতো সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেন এবং আগামীকাল বুধবার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন।
পলাতক আসামিরা ওবায়দুল কাদের ছাড়াও এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার সকল আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।







