ভোলা আমার বাপের বাড়ি, মার্কা আমার গরুর গাড়ি: জনসমুদ্রে ভাসলেন আন্দালিভ রহমান পার্থ
নিজস্ব প্রতিবেদক | ভোলা

“ঢাকার মানুষ আমাকে পছন্দ করে, কিন্তু ভোলার মানুষ আমাকে ভালোবাসে। আর এই ভালোবাসার টানেই আমি বারবার আপনাদের কাছে ফিরে আসি।” দীর্ঘ বিরতির পর নিজের নির্বাচনী এলাকা ভোলা-১ (সদর) আসনে পা রেখেই আবেগঘন কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ১০-দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা আন্দালিভ রহমান পার্থ। শনিবার সকালে তিনি ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে স্পিডবোটে ভোলার খেয়াঘাটে পৌঁছালে সেখানে অপেক্ষমাণ হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে।

খেয়াঘাট থেকে দলীয় কার্যালয়: স্লোগানে প্রকম্পিত রাজপথ
সকাল ১০টা থেকেই জাঙ্গালিয়া নদীর তীরে প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে ভিড় জমাতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ ও নেতা-কর্মীরা। দুপুর ১২টায় পার্থ ঘাটে পৌঁছালে শুরু হয় ফুলেল বৃষ্টি। সেখান থেকে শুরু হয় দীর্ঘ পদযাত্রা। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে জনতার সাথে পায়ে হেঁটে তিনি ভোলা শহরের নতুনবাজার এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছান। এ সময় পুরো শহর ‘গরুর গাড়ি’ প্রতীকের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।
প্রতিশোধ নয়, মানবিক ভোলা গড়ার অঙ্গীকার
দলীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে আন্দালিভ রহমান পার্থ তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দেন, “আমরা কোনো মারামারি বা প্রতিশোধের রাজনীতি করতে আসিনি। আমি ভোলাকে সিঙ্গাপুর বানানোর মিথ্যা স্বপ্ন দেখাব না, তবে এইটুকু নিশ্চিত করতে পারি যে—আমার কোনো আত্মীয়স্বজন ভোলায় টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি বা লুটপাট করবে না। আমরা গড়ব এক মানবিক ও শান্তিময় ভোলা।”
তিনি আরও বলেন, “ভোলার উন্নয়ন, ভোলা-বরিশাল সেতু এবং মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার সামর্থ্য যদি আমার আছে বলে আপনারা বিশ্বাস করেন, তবে দল-মত নির্বিশেষে আমাকে সমর্থন দিন। আসুন, সবাই মিলে আমাদের এই জেলাকে ঠিক করি।”

ঐক্যের বার্তা: ‘বিএনপি-বিজেপি ভাই ভাই’
ভোলা-১ আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীরের মনোনয়ন প্রত্যাহারের প্রসঙ্গ টেনে পার্থ বলেন, “বিএনপি ও বিজেপি ভাই ভাই, ঐক্য ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই। আজ থেকে ভোলার মুরব্বি গোলাম নবী আলমগীর। আমরা সবাইকে বুকে টেনে নিয়ে কাজ করব।” তিনি নেতা-কর্মীদের কঠোর নির্দেশ দিয়ে বলেন, অন্য কোনো দলের সাথে মারামারি বা কাটাকাটিতে লিপ্ত হওয়া যাবে না এবং কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারবেন না।

স্মৃতিতে নাজিউর রহমান মঞ্জু ও খালেদা জিয়া
বক্তৃতায় ২০০৮ সালের দুঃসময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বাবার মৃত্যুর পর যখন তিনি দিশেহারা ছিলেন, তখন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আস্থা ও ভোলার মানুষের ভালোবাসাই তাকে সংসদে পৌঁছে দিয়েছিল।
সমাবেশ শেষে তিনি উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামে তাঁর বাবা, সাবেক মন্ত্রী নাজিউর রহমান মঞ্জুর কবর জিয়ারত করেন। এরপর তিনি শহরের উকিলপাড়ায় নিজের পৈতৃক নিবাসে যান। আন্দালিভ রহমান পার্থের আগমনে ভোলার রাজনীতিতে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।







