বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনা যুগের কি তবে অবসান? জয়ের কণ্ঠে অবসরের সুর

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারকারী শেখ হাসিনা কি তবে চিরতরে রাজনীতির মাঠ থেকে বিদায় নিচ্ছেন? এমন প্রশ্নেই এখন সরগরম দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্যে সেই আভাসই মিলেছে। জয় স্পষ্ট করে বলেছেন, সম্ভবত এটিই ‘হাসিনা যুগের সমাপ্তি’।

ওয়াশিংটন ডিসিতে নিজের বাসভবনে সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈনকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে জয় জানান, তার মা এখন দেশে ফিরে রাজনৈতিক ব্যস্ততা নয়, বরং অবসর জীবন কাটাতে চান। ৭8 বছর বয়সী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের এটিই শেষ মেয়াদ হতে পারত উল্লেখ করে জয় বলেন, “আওয়ামী লীগ একটি প্রাচীন ও বিশাল রাজনৈতিক দল। শেখ হাসিনাকে নিয়ে কিংবা তাকে ছাড়াই এই দল তার ঐতিহ্য বজায় রেখে চলবে। কেউ তো আর চিরদিন বেঁচে থাকে না।”

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে এক প্রকার নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় আসন্ন নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তুঙ্গে।

সাক্ষাৎকারে জয় জুলাই ও আগস্ট মাসের সহিংসতা নিয়ে তার সরকারের দায়ভার কিছুটা স্বীকার করলেও সরাসরি নিজের মায়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের কোনো নির্দেশ শেখ হাসিনা দেননি। বরং পরিস্থিতি ‘মিসহ্যান্ডেল’ বা ভুলভাবে সামলানোর জন্য প্রশাসন ও পুলিশের কিছু অতি উৎসাহী সদস্যকে দায়ী করেন তিনি। জয় পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, “৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন এবং বর্তমানে কারাগারে তাদের ওপর নিপীড়ন চালানো হচ্ছে।”

নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জয় দাবি করেন, আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তার কারণে অতীতে ভোট কারচুপির প্রয়োজন ছিল না। তবে দলীয় প্রধানের অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জয় আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান, দেশের প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ জনসমর্থন এখনো দলটির সাথে আছে। তাই কোনো ব্যক্তি বিশেষের অনুপস্থিতিতে এই আদর্শ হারিয়ে যাবে না।

হাসিনা যুগের অবসানের ইঙ্গিত দিয়ে জয়ের এই বক্তব্য দেশের রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এই ‘সমাপ্তি’র সংকেত কীভাবে গ্রহণ করবেন এবং শেখ হাসিনা বিহীন আওয়ামী লীগ কীভাবে পুনর্গঠিত হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button