বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

সাগরতলে ৫০০ বছরের ‘প্রাণ’: সেন্ট মার্টিনে ৫৭ দিন কাটিয়ে কী বার্তা দিলেন ডুবুরি শরীফ?

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

টানা ৫৭ দিন। লোকচক্ষুর অন্তরালে নীল জলের গভীরে এক অন্য জগতের বাসিন্দা হয়ে ছিলেন আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফার ও ডাইভমাস্টার শরীফ সারওয়ার। গত ১৯ নভেম্বর ঢাকা ছেড়ে সেন্ট মার্টিনের নোনা জলে ডুব দিয়েছিলেন তিনি, ফিরেছেন এই তো সেদিন ১৫ জানুয়ারি। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রবাল দ্বীপের সাগরতলের খবরাখবর রাখা এই মানুষটি এবার যা দেখলেন, তা যেমন বিস্ময়ের, তেমনি ভীষণ উদ্বেগের।

কোরালের গায়ে ছোট মাছ
কোরালের গায়ে ছোট মাছ

৫০০ বছরের সাক্ষী ও স্বচ্ছ জলের মায়া শরীফ জানান, এবারের সমুদ্রযাত্রা তাকে দুহাত ভরে আনন্দ দিয়েছে। বিশেষ করে সেন্ট মার্টিনের জল এবার ছিল অবিশ্বাস্য রকমের স্বচ্ছ। সাগরের নিচে তিনি দেখা পেয়েছেন এক বিশাল ‘ব্রেন কোরাল’ বা মস্তিস্ক প্রবালের। মানুষের দুই হাতের প্রসারের চেয়েও বড় এই প্রবালটি বছরে বাড়ে মাত্র ১ থেকে ২ সেন্টিমিটার। শরীফের ধারণা, সমুদ্রের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা এই জীবন্ত প্রাণটির বয়স অন্তত ৫০০ বছর! শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সমুদ্রের ভারসাম্য রক্ষা করে চলা এই প্রবাল যেন দ্বীপের ইতিহাসের এক জীবন্ত সাক্ষী।

সেন্ট মার্টিনের সাগরতলে ফেদার ডাস্টার ওয়ার্ম
সেন্ট মার্টিনের সাগরতলে ফেদার ডাস্টার ওয়ার্ম

যখন সৈকতে ‘উদ্ধার’ আতঙ্ক সমুদ্রের মায়ায় পড়ে একবার তো বিপত্তিই বাঁধিয়েছিলেন। পানির স্বচ্ছতা আর অক্সিজেনের পর্যাপ্ততায় টানা তিন ঘণ্টা পানির নিচে ডুবে ছবি তুলেছেন। এদিকে ওপরে থাকা সহকর্মীরা ভেবেছিলেন বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে। খবর দেওয়া হয় কোস্টগার্ডকে, সৈকতে জমে যায় মানুষের ভিড়। তিন ঘণ্টা পর যখন শরীফ ভেসে উঠলেন, তখন সবার চোখেমুখে উৎকণ্ঠা আর তার চোখে ছিল সমুদ্রের মুগ্ধতা।

ব্রেন কোরাল
ব্রেন কোরাল

আর্তনাদ করছে নীল জলরাশি তবে এই মুগ্ধতার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বিভীষিকা। শরীফ সারওয়ারের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এক করুণ ছবি। যে প্রবাল প্রাচীর মাছের আবাস হওয়ার কথা, সেখানে দেখা যাচ্ছে পরিত্যক্ত জালের স্তূপ। ‘কোরাল ব্লিচিং’ বা প্রবাল সাদা হয়ে যাওয়ার মরণব্যাধি গ্রাস করছে সেন্ট মার্টিনকে। অতিরিক্ত পলি আর প্লাস্টিক কণার ভিড়ে শ্বাস নিতে পারছে না সামুদ্রিক প্রাণ।

সৈকতে পড়ে আছে মৃত কচ্ছপ
সৈকতে পড়ে আছে মৃত কচ্ছপ

সৈকতে হাঁটতে গিয়ে তিনি দেখেছেন অলিভ রিডলি কচ্ছপের নিথর দেহ। প্লাস্টিক দানার ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে দ্বীপের চিরচেনা রূপ। সবচেয়ে ভয়ংকর চিত্রটি দেখা যায় গভীর রাতে; যখন অনেক হোটেল-রিসোর্ট তাদের বর্জ্য চুপিচুপি বালুর নিচে পুঁতে ফেলছে।

পরিত্যক্ত জালে ঢাকা কোরাল
পরিত্যক্ত জালে ঢাকা কোরাল

শেষ কথা শরীফ সারওয়ারের ৫৭ দিনের এই অভিযান আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে—সেন্ট মার্টিন শুধু পর্যটনের জায়গা নয়, এটি একটি বিপন্ন ইকোসিস্টেম। প্রকৃতিকে তার মতো থাকতে না দিলে অচিরেই হয়তো ওই ৫০০ বছরের প্রবালটি কেবল আমাদের স্মৃতির ফ্রেমে বন্দি হয়ে থাকবে।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button