বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

মিন্টো রোডে সচিবদের ‘রাজপ্রাসাদ’: বিলাসবহুল হোটেলকেও হার মানাবে সুযোগ-সুবিধা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

রাজধানীর মিন্টো রোডে সরকারি সচিবদের জন্য নির্মিত ফ্ল্যাটগুলোর জৌলুস ও সুযোগ-সুবিধা যেকোনো ফাইভ স্টার (পাঁচ তারকা) হোটেলকেও হার মানাবে। জনগণের করের টাকায় আমলাদের জন্য এমন আকাশচুম্বী বিলাসের আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি, ২০২৬) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক শাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

খরচে রাজকীয়, জবাবদিহিতে শূন্য

সংলাপে হোসেন জিল্লুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সচিবদের যে ফ্ল্যাট দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর সুযোগ-সুবিধা দেখলে মনে হয় আমরা কোনো বিলাসবহুল হোটেলে আছি। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই বিপুল ব্যয়ের হিসাব কে দেবে? সরকারের এই ধরনের বেহিসাবি খরচের কোনো জবাবদিহি নেই।”

তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে, কিন্তু বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার কতটা বেড়েছে? বেতন বৃদ্ধির সাথে কাজের গুণগত মানের কোনো মিল নেই। রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের এই কার্যকারিতা নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ খতিয়ান এখন সময়ের দাবি।

‘অহমিকা দেখানোর প্রকল্প’ ও রাষ্ট্রীয় ক্যানসার

দেশের বিভিন্ন আইসিটি পার্কের করুণ দশা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বর্তমানে অনেক আইসিটি পার্ক এখন কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। শুধু দারোয়ানদের বেতন জোগাড় করতেই এই পথ বেছে নিতে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে। এগুলো আসলে উন্নয়নের নামে ক্ষমতাবানদের ‘অহমিকা দেখানোর প্রকল্প’। এই মানসিকতা এখন রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ক্যানসারের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।”

নির্বাচন নিয়ে গভীর সংশয়

সংলাপে উপস্থিত সিজিএস প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান আগামী ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “সরকার বলছে এটি ইতিহাসের সেরা নির্বাচন হবে, কিন্তু আমাদের ভয় হচ্ছে এটি ইতিহাসের নিকৃষ্টতম নির্বাচনে রূপ নিতে পারে। সরকার বর্তমানে এমন সব নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যা কেবল একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের নেওয়ার কথা। তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য আসলে কী, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না।”

ডিজিটাল বাংলাদেশের আড়ালে এনালগ হয়রানি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) সায়মা হক বিদিশা বলেন, “ডিজিটালাইজেশন দুর্নীতির পথ কিছুটা রুদ্ধ করলেও আমাদের দেশে এটি এখনো জটিল ও কাগজনির্ভর। কর রিটার্ন জমা দেওয়ার মতো সাধারণ কাজও এখনো মানুষের জন্য আতঙ্ক।”

সংলাপে বক্তারা একমত হন যে, মেগা প্রজেক্ট বা বেতন বৃদ্ধি দিয়ে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়, যদি না সেখানে স্বচ্ছতা ও জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা অন্যান্য সংস্কার কমিশনগুলো এখনো বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পারেনি বলে তারা মন্তব্য করেন।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
Back to top button