‘আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে নির্বাচন কি গ্রহণযোগ্য?’: অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে জি এম কাদেরের তোপ
নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

নির্বাচনী প্রচারণার শেষ লগ্নে এসে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর ক্ষোভ উগরে দিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। আজ রোববার দুপুরে রংপুরের সেনপাড়ায় নিজ বাসভবন ‘স্কাই ভিউ’-তে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। জি এম কাদের অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ পক্ষকে সুবিধা দিতে গিয়ে ভোটের মাঠের ভারসাম্য বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নষ্ট করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জি এম কাদের বলেন, “দেশের একটি বিরাট রাজনৈতিক অংশকে (আওয়ামী লীগ) বাইরে রেখে নির্বাচন কখনো আন্তর্জাতিকভাবে বা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না।” তিনি অতীতে বিএনপিকে মাঠের বাইরে রাখার উদাহরণ টেনে বলেন, “আগে যা হতো, এখনো তা-ই হচ্ছে। তাহলে ৫ আগস্টের সেই পরিবর্তনের সার্থকতা কোথায়?” তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের জন্য পরিকল্পিতভাবে ‘মব’ সৃষ্টি করে হত্যা ও অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে। কারাবন্দী ছাত্রলীগ নেতার পরিবার ট্র্যাজেডিতে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ার ঘটনাকেও তিনি সরকারের ‘নির্মমতা’র উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান সরকার ঘোষিত আসন্ন গণভোট বা রেফারেন্ডাম নিয়েও কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন জাপা চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, “সংবিধানের বাইরে গিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এটি আসলে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার একটি চক্রান্ত।” দেশ বাঁচাতে জাতীয় পার্টি এই গণভোটে ‘না’ পন্থী অবস্থান নিয়েছে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
নির্বাচন কমিশনের নির্বিকার ভূমিকা জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের প্রচারণায় বাধা এবং নেতা-কর্মীদের হুমকির বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন জি এম কাদের। তিনি বলেন, “আমাদের লোকদের ভয় দেখানো হচ্ছে, হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সব দেখেও না দেখার ভান করছে।” তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের মানুষ জাতীয় পার্টির প্রতি অভূতপূর্ব সাড়া দিচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
শেষ পর্যন্ত কি ভোটে থাকবে জাপা? ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো সম্ভাবনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কৌশলী উত্তর দেন। তিনি বলেন, “আমরা শেষ পর্যন্ত ভোটে থাকার চেষ্টা করব। তবে পরিস্থিতি যদি এমন হয় যে আমাদের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে আগুন দেওয়া হবে, নির্বিচারে জেলে ভরা হবে বা ভোটারদের মেরে ফেলা হবে, তখন আমাদের নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
তিন দিনের রংপুর সফর শেষে আজ বিকেলেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর সঙ্গে সাবেক মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফাসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।







