বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

জঙ্গল সলিমপুরে ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’: র‍্যাব কর্মকর্তা নিহতের পর হার্ডলাইনে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গহীন পাহাড়ে অবস্থিত ‘অপরাধের স্বর্গরাজ্য’ হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুরে শিগগিরই শুরু হচ্ছে সব বাহিনীর সমন্বিত এক সাঁড়াশি অভিযান। গত সোমবার সন্ধ্যায় অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাবের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর সরকার এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এই অবস্থানের কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জঙ্গল সলিমপুরের ওই ঘটনাকে ‘জঘন্য ও বর্বরোচিত’ হিসেবে বর্ণনা করে এর তীব্র নিন্দা জানান।

জড়িত কাউকেই ছাড় নয় প্রেস সচিব সাফ জানিয়ে দেন, সলিমপুরের ওই সন্ত্রাসী হামলায় যারা সরাসরি জড়িত এবং যারা পেছন থেকে ইন্ধন জুগিয়েছেন, তাদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, “জঙ্গল সলিমপুরে যা ঘটেছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সবগুলো ইউনিট মিলে একটি সমন্বিত অভিযান (Joint Operation) চালানো হবে।”

নির্বাচনের আগে অস্ত্র উদ্ধারে জোর সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে অবৈধ ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে দেশব্যাপী চিরুনি অভিযান চালিয়ে যত দ্রুত সম্ভব সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে।

র‍্যাব কর্মকর্তার আত্মত্যাগ উল্লেখ্য, গত সোমবার সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানায় অভিযানে যায় র‍্যাব-৭-এর একটি দল। সেখানে অতর্কিত হামলার শিকার হন তাঁরা। এতে র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন এবং আরও কয়েকজন সদস্য আহত হন। এই ঘটনার পরেই পুরো এলাকা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সরকার অপরাধী দমনে সর্বোচ্চ কঠোর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

প্রশাসনিক সংস্কার ও অন্যান্য সিদ্ধান্ত আজকের সংবাদ সম্মেলনে নিকার (NICAR) সভার অন্যান্য সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরা হয়। সভায় দেশে নতুন ৪টি থানা স্থাপনসহ মোট ১১টি প্রশাসনিক প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। এছাড়া কাজের গতি বাড়াতে ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি) উত্তর ও দক্ষিণ—এই দুই ভাগে বা অন্য কোনোভাবে বিভক্ত করার বিষয়েও নীতিগত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান উপ প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button