বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

প্রার্থীদের কাঁধে ১৮ হাজার কোটি টাকার ঋণের পাহাড়, অর্ধেকেরও বেশি ব্যবসায়ী: টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। আজ বৃহস্পতিবার ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটি জানায়, এবারের নির্বাচনে প্রায় ২৫.৫ শতাংশ প্রার্থীর মাথায় রয়েছে বিশাল ঋণের বোঝা, যার মোট পরিমাণ ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি ৫২ লাখ টাকারও বেশি। এর মধ্যে সিংহভাগই অর্থাৎ ১৭ হাজার ৪৭১ কোটি টাকাই ব্যাংকঋণ।

টিআইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত পাঁচটি জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় এবার ঋণগ্রস্ত প্রার্থীর সংখ্যা কমলেও ঋণের মোট অঙ্ক অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঋণগ্রস্ত হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছে বিএনপি। দলটির প্রার্থীদের মধ্যে ৫৯.৪১ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে ঋণ বা দায়ের সঙ্গে যুক্ত। অন্যান্য দলের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ৩৩ শতাংশ, জাতীয় পার্টির ২৭ শতাংশ, সিপিবির ২৫ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রায় ২২ শতাংশ প্রার্থী ঋণগ্রস্ত।

ব্যবসায়ীদের আধিপত্য, রাজনীতিতে অনীহা! প্রতিবেদনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো সংসদে ব্যবসায়ীদের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য। ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪৮ শতাংশেরও বেশি সরাসরি পেশা হিসেবে ব্যবসার কথা উল্লেখ করেছেন। বিপরীতে, রাজনীতিকে নিজের পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন মাত্র ১.৫৬ শতাংশ প্রার্থী। অর্থাৎ, আইন প্রণেতা হওয়ার দৌড়ে মূলধারার রাজনীতিকদের চেয়ে ব্যবসায়ীরাই এখন চালকের আসনে। এছাড়াও প্রার্থীদের মধ্যে ১২.৬১ শতাংশ আইনজীবী এবং প্রায় ১২ শতাংশ শিক্ষক রয়েছেন।

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আইনি জটিলতা শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে এবারের প্রার্থীরা বেশ উন্নত। টিআইবি জানায়, ৭৬.৪২ শতাংশ প্রার্থীই স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। তবে প্রার্থীদের আইনি রেকর্ড নিয়ে রয়েছে উদ্বেগ। বর্তমানে মামলা চলমান রয়েছে এমন প্রার্থীর সংখ্যা ৫৩০ জন, আর অতীতে মামলার রেকর্ড ছিল ৭৪০ জন প্রার্থীর।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রার্থীদের হলফনামায় দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকাটা একটি বড় ঘাটতি। তিনি নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে এই বিশাল পরিমাণ ঋণ এবং সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button