আবারো গ্রেপ্তার ইভ্যালির রাসেল-শামীমা: মাথায় ঝুলছে ৩৯১টি পরোয়ানা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

দেশের আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন আবারো পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন। সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের অবস্থান নিশ্চিত করে এই অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারের পর তাঁদের মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
কেন এই গ্রেপ্তার?
ডিএমপির উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই দম্পতির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত মোট ৩৯১টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মোহাম্মদ রাসেলের বিরুদ্ধে সাভার, ধানমন্ডি ও কাফরুলসহ বিভিন্ন থানায় শতাধিক পরোয়ানা রয়েছে। শুধু চেক জালিয়াতি নয়, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার দায়ে একাধিক মামলায় তাঁদের কারাদণ্ডের রায়ও দিয়েছিলেন আদালত। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তারে সক্ষম হয়।

পুরনো সেই স্মৃতি
২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রাহকের কয়েকশ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে প্রথমবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন রাসেল ও শামীমা। প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় কারাগারে থাকার পর ২০২২ সালে তাঁরা শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পান। মুক্তি পেয়ে আবারও ইভ্যালি চালু করার ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় এলেও, পাওনাদারদের টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে জটিলতা কাটেনি। উল্টো একের পর এক চেক জালিয়াতির মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হতে থাকে।
পুলিশ জানিয়েছে, ৩৯১টি পরোয়ানার সত্যতা যাচাই করে তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দেশের ই-কমার্স ইতিহাসে এই দম্পতির বারবার গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাটি সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।







