বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

রিমান্ড শেষে কারাগারে ড্রাইভার আবেদ আলী: বেরিয়ে আসছে অবৈধ সম্পদের পাহাড়!

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে দেশজুড়ে আলোচিত পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ তাকে জেলহাজতে পাঠানোর এই নির্দেশ দেন।

দুদকের করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় গত ১৫ জানুয়ারি আবেদ আলীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আল আমিন তাকে আদালতে হাজির করেন। দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রিমান্ডে আবেদ আলীর আয় ও সম্পদের উৎস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

হিসাবের বাইরে কোটি কোটি টাকা আবেদ আলীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি অবৈধভাবে ৩ কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৭ টাকা আয় করেছেন। তবে চমকপ্রদ তথ্য মিলেছে তার ব্যাংক লেনদেনে। দুদকের তদন্তে দেখা গেছে, আবেদ আলীর ১২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০ কোটি ৮৮ লাখ ১৬ হাজার ৯৭১ টাকা জমা হয়েছিল এবং সেখান থেকে প্রায় ২০ কোটি ৪১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। একজন সাধারণ গাড়িচালকের অ্যাকাউন্টে এত বিপুল অঙ্কের লেনদেন বিস্মিত করেছে খোদ তদন্ত কর্মকর্তাদেরও।

ছেলের পর এবার বাবার গন্তব্যও কারাগার আবেদ আলীর পাশাপাশি তার স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পী এবং ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা করেছে দুদক। আবেদ আলীর স্ত্রী শিল্পীর বিরুদ্ধে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ এবং তার ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা জমার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, ছেলে সিয়ামের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিয়ামকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

চাকরিচ্যুতির ইতিহাস পিএসসির রেকর্ড অনুযায়ী, আবেদ আলী ১৯৯৭ সালে গাড়িচালক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। তবে ২০১৪ সালে একটি নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তরপত্র সরবরাহের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সে সময়ই চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। এরপরও তার প্রভাব-প্রতিপত্তি এবং সম্পদের পাহাড় গড়ার কাজ থেমে থাকেনি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন জানান, আজ জামিন শুনানি না থাকায় আবেদ আলীকে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। দুদকের আইনজীবী জানিয়েছেন, এই পরিবারের সম্পদের উৎস এবং প্রশ্নফাঁস সংশ্লিষ্টতায় তাদের ভূমিকার বিষয়ে আরও গভীর তদন্ত চলছে।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button