সব গুঞ্জন সত্যি করে জেফারের সাথে রাফসানের বিয়ে, আড়াল ভেঙে যা বললেন সাবেক স্ত্রী এশা
বিনোদন ডেস্ক | ঢাকা

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা আলোচনা-সমালোচনা আর নেটিজেনদের হাজারো প্রশ্নের উত্তর মিলল এক জমকালো বিয়ের আয়োজনে। গত বুধবার জনপ্রিয় উপস্থাপক ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রাফসান সাবাব এবং আলোচিত গায়িকা জেফার রহমান বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তবে এই বিয়ের খবরের চেয়েও বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে রাফসানের সাবেক স্ত্রী ডা. সানিয়া শামসুন এশার প্রতিক্রিয়া এবং কাকতালীয়ভাবে ওই দিনটিই তাঁর জন্মদিন হওয়ার বিষয়টি।
২০২৩ সালের শেষের দিকে যখন রাফসান তাঁর তিন বছরের সংসারের ইতি টানার ঘোষণা দেন, তখন থেকেই জেফারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিষয়টি বিনোদন পাড়ায় ‘ওপেন সিক্রেট’ হিসেবে পরিচিত ছিল। যদিও সে সময় বিষয়টিকে নিছক ‘বন্ধুত্ব’ বলে এড়িয়ে গিয়েছিলেন এই নবদম্পতি, তবে গত বুধবারের বিয়ের পিঁড়ি প্রমাণ করে দিল— “যা রটে, তার কিছু তো বটে।”
জন্মদিনে প্রাক্তনের বিয়ে: এশার নীরবতা ও প্রতিবাদ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাফসান-জেফারের বিয়ের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই সমালোচনার ঝড় ওঠে। নেটিজেনদের বড় একটি অংশ এশার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে, যে দিনে রাফসান দ্বিতীয়বার বিয়ে করলেন, সে দিনটিই ছিল এশার জন্মদিন। এই ঘটনাটি নেটিজেনদের কাছে চরম ‘নির্মমতা’ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।

দীর্ঘদিন এই বিষয়ে নিশ্চুপ থাকলেও সম্প্রতি দেশ টেলিভিশনের এক অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন ডা. এশা। তিনি বলেন, “আমি আমার জীবন নতুন করে গুছিয়ে নিচ্ছি। ইতিবাচকভাবে বাঁচার চেষ্টা করছি। কিন্তু যখন অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতীত সামনে চলে আসে, তখন বিরক্ত লাগে।”
‘সত্য সবাই জানে’
বিয়ের দুই দিন পর ফেসবুকে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন এশা। সেখানে তিনি সরাসরি কারও নাম না নিলেও তাঁর বক্তব্য ছিল বেশ তীক্ষ্ণ। তিনি লিখেছেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষই জানে বর্তমানে কী ঘটছে এবং সত্যটা কী। এ বিষয়ে আমার আর নতুন করে কিছু বলার প্রয়োজন নেই।”
অনুরাগীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আরও যোগ করেন যে, তিনি আর কারো ব্যক্তিগত জীবনের অংশ হয়ে থাকতে চান না। তাঁর স্পষ্ট বার্তা— “আমি আর আমার অতীত পরিচয় বহন করতে চাই না। আমার পরিচয় হোক শুধু একটাই— ডা. এশা।”
গুঞ্জন থেকে বাস্তবতা
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ডা. সানিয়া এশার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন রাফসান সাবাব। তবে বছর দুয়েক আগে তাঁদের বিচ্ছেদের খবর আসে। তখন রাফসান বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিলেও এশা জানিয়েছিলেন তিনি সংসার টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন। সেই সময় থেকেই জেফার ও রাফসানের বিদেশ ভ্রমণ এবং ঘনিষ্ঠতার ছবিগুলো সামাজিক মাধ্যমে বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ হিসেবে ইঙ্গিত দিচ্ছিল ভক্তরা। দীর্ঘ দুই বছরের রাখঢাক শেষে অবশেষে সব জল্পনা সত্যি করে নতুন জীবন শুরু করলেন রাফসান ও জেফার।







