বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামকে ‘বাস্তব’ বাণিজ্যিক রাজধানী গড়ার অঙ্গীকার তারেক রহমানের: ‘শুধু ঘোষণা নয়, উন্নয়ন হবে কর্মকাণ্ডে’

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে শুধু কাগজে-কলমে নয়, বরং কার্যকর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের প্রকৃত ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ ২০ বছর পর চট্টগ্রামের রাজনৈতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, বিএনপি আগামীতে সরকার গঠন করলে চট্টগ্রাম হবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক হাব।

আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি, ২০২৬) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত এই সমাবেশে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে বন্দরনগরী এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণের প্রতিশ্রুতি

স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারই চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করেছিল। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন, কিন্তু সময়ের অভাবে তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। বিগত ১৫ বছরেও এই লক্ষ্য অর্জনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও যোগ করেন, “চট্টগ্রামকে প্রকৃত বাণিজ্যিক রাজধানী করা গেলে শুধু এই অঞ্চলের নয়, বরং সারা দেশের মানুষের কর্মসংস্থান হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙা হলে মানুষ সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবে।”

নতুন ইপিজেড ও লাখো কর্মসংস্থান

চট্টগ্রামকে বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে এখানে ইপিজেড এবং কেইপিজেডের আদলে আরও নতুন নতুন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। এর ফলে তৈরি হবে লাখ লাখ তরুণের কর্মসংস্থান। তিনি ব্যবসায়ীদের জন্য একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন, যেখানে কোনো হয়রানি ছাড়াই নির্বিঘ্নে বাণিজ্য পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

‘ঘোষণার দরকার নেই, কাজই পরিচয়’

জনসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এক শক্তিশালী বার্তা দেন। তিনি বলেন, “বাণিজ্যিক রাজধানী শুধু মুখে বললে বা কাগজে লিখলে হয় না। আমরা চট্টগ্রামকে এমন এক অর্থনৈতিক উচ্চতায় নিয়ে যাব যে, আলাদা করে একে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণারই প্রয়োজন হবে না। আমাদের কর্মকাণ্ডই প্রমাণ করবে চট্টগ্রাম কী।” তিনি এই অঞ্চলকে পূর্ব ও পশ্চিমের দেশগুলোর জন্য একটি ‘কানেক্টিভিটি হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

ঐক্যবদ্ধ চট্টগ্রাম, নতুন প্রত্যাশা

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন তার বক্তব্যে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন আগামীর সরকারের কাছে চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নে পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বিগত সরকারের সময়ের বৈষম্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে কোনো রাজনৈতিক ভেদাভেদ ছাড়াই চট্টগ্রামের উন্নয়ন করা হবে।

জনসভায় উপস্থিত জনতার স্বতঃস্ফূর্ত সাড়ায় এটি স্পষ্ট যে, ২০ বছর পর তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর নেতা-কর্মীদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। সমাবেশের শেষে তিনি সবাইকে আসন্ন নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button