বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছানোর ঘোষণা বাণিজ্যমন্ত্রীর: ‘কথায় নয়, কাজে প্রমাণ হবে সিন্ডিকেট দমন’

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণ আপাতত পিছিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও রপ্তানি বাণিজ্যের চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং আজ থেকেই এ সংক্রান্ত দাপ্তরিক কাজ শুরু হয়েছে।

কেন পেছানো হচ্ছে এলডিসি উত্তরণ?

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের রপ্তানি খাত বর্তমানে একটি মাত্র পণ্যের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। মোট আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। তিনি বলেন, “আমাদের অর্থনীতি এখনও অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত। এই মুহূর্তে এলডিসি থেকে বের হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে আমরা যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাই, তা ঝুঁকির মুখে পড়বে।”

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতিতে আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে বিশ্ববাজারে একটি অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য যেকোনো নীতিগত ভুল বা বৈদেশিক ধাক্কা সামলানোর ক্ষমতা সীমিত। তাই অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এবং রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে সময় প্রয়োজন। এই লক্ষ্যেই অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

রমজানের বাজার ও সিন্ডিকেট হুঁশিয়ারি

আসন্ন রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ে সাধারণ মানুষের আশঙ্কার বিষয়ে মন্ত্রী অভয় দিয়ে বলেন, “রমজানে নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুত সরকারের হাতে রয়েছে, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পাইপলাইনেও প্রচুর পণ্য আছে। তাই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।”

বাজার সিন্ডিকেট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সরাসরি বলেন, “আমি শুধু মুখে লম্বা চওড়া কথা বলতে চাই না। সিন্ডিকেট দমনে আমার কাজের মাধ্যমেই আমি ফলাফল দেখাতে চাই।”

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নতুন দিশা

বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশে প্রতি বছর ২০ থেকে ২২ লাখ নতুন মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। কিন্তু গত কয়েক বছরের স্থবিরতার কারণে কর্মসংস্থানে চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানান, “অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগ আসে না। আমরা একটি স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই যাতে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা তাঁদের পুঁজির নিরাপত্তা ও মুনাফার বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেন।”

সবশেষে তিনি দেশের কল্যাণে গঠনমূলক সমালোচনা ও সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সরকারের কোনো ভুল হলে তা ধরিয়ে দেবেন। আমরা সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই।”

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button