বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

পটিয়ায় নাটকীয় মোড়: জোটের স্বার্থে এলডিপিকে সমর্থন দিয়ে ভোট ছাড়লেন জামায়াত প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী এম এয়াকুব আলী প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর, জোটের সংহতি রক্ষায় ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ ফরিদুল আলম।

জোটের স্বার্থে ত্যাগ

গত শনিবার রাতে দক্ষিণ জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সভায় বক্তারা বলেন, ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বৃহত্তর স্বার্থে এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে জামায়াত এই আসনে এলডিপি প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছে। যদিও নির্বাচনী আইন অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় ব্যালট পেপারে জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকটি থাকবে, তবে দলটির নেতাকর্মীরা এখন থেকে এলডিপির ‘ছাতা’ প্রতীকের পক্ষে কাজ করবেন।

এয়াকুব আলীর কঠিন লড়াই

এম এয়াকুব আলীর জন্য এই পথটি সহজ ছিল না। ঋণখেলাপির অভিযোগে রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রথমে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেও তিনি ব্যর্থ হন এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ থেকেও বঞ্চিত হন। তবে দমে না গিয়ে তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। অবশেষে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত বাতিল করে তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন।

এয়াকুব আলীর আইনজীবী আবদুল মোমেন চৌধুরী বলেন, “এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনের জয়। আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”

নির্বাচনী সমীকরণ ও জোটের অবস্থান

পটিয়ার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, আদালতের আদেশে প্রার্থী সংখ্যা একজন বেড়েছে। তবে আইন অনুযায়ী এখন আর কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন না। ফলে কারিগরিভাবে ফরিদুল আলম প্রার্থী হিসেবে থাকলেও রাজনৈতিকভাবে তিনি এখন এলডিপির সমর্থক।

উল্লেখ্য, ১০-দলীয় জোটে নতুন করে বাংলাদেশ লেবার পার্টি যুক্ত হওয়ায় এটি এখন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে পরিণত হয়েছে। পটিয়ার এই নতুন সমঝোতা জোটের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button