বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

নজর কাড়ছে রংপুরের কারুকার্যময় মৃৎশিল্প, ফুটপাতে বসছে মাটির তৈজসপত্রের পসরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

রংপুর শহরের ব্যস্ততম কাছারিবাজার এলাকা। নাগরিক কোলাহলের মাঝেও পথচারীদের নজর আটকে যাচ্ছে ফুটপাতে সাজানো মাটির তৈরি বাহারি সব তৈজসপত্রের দিকে। নান্দনিক কারুকাজ আর মাটির সোঁদা গন্ধে ঘেরা এই পসরাগুলো যেন এক টুকরো গ্রামীণ ঐতিহ্যের স্মারক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শহরের বুকে।

দৃষ্টিনন্দন মাটির তৈরি পণ্য
দৃষ্টিনন্দন মাটির তৈরি পণ্য
মাটির তৈরি শোপিস পরিষ্কার করছেন একজন ব্যবসায়ী
মাটির তৈরি শোপিস পরিষ্কার করছেন একজন ব্যবসায়ী
দোকানে রয়েছে বিভিন্ন নকশার মাটির থালা
দোকানে রয়েছে বিভিন্ন নকশার মাটির থালা
সাজিয়ে রাখা হয়েছে মাটির তৈরি কাপ–পিরিচ
সাজিয়ে রাখা হয়েছে মাটির তৈরি কাপ–পিরিচ
মাটির তৈরি ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি নজর কাড়ে ক্রেতাদের
মাটির তৈরি ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি নজর কাড়ে ক্রেতাদের

গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস থেকে শুরু করে ঘর সাজানোর শোপিস— কী নেই এখানে! নিপুণ হাতে তৈরি মাটির হাঁড়ি, পাতিল, সরা, মগ, ফুলদানি আর শিশুদের মাটির খেলনাগুলোর প্রতিটি ভাঁজে মিশে আছে কারিগরের মমতা। আধুনিক প্লাস্টিক বা সিরামিকের ভিড়েও মাটির জিনিসের এই আবেদন এখনো ফুরিয়ে যায়নি, বরং নতুন রূপে তা ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

চিতই পিঠা তৈরির পাত্র বিক্রি হয় দোকানে
চিতই পিঠা তৈরির পাত্র বিক্রি হয় দোকানে
ভাপা পিঠা তৈরির হাঁড়ি পাওয়া যাচ্ছে দোকানগুলোতে
ভাপা পিঠা তৈরির হাঁড়ি পাওয়া যাচ্ছে দোকানগুলোতে
দেয়ালে টাঙানোর শোপিস
দেয়ালে টাঙানোর শোপিস

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকেই বিক্রেতারা তাদের সম্ভার সাজিয়ে বসেন। সুলভ মূল্য আর চোখধাঁধানো নকশার কারণে অফিসফেরত মানুষ কিংবা শৌখিন ক্রেতারা ভিড় করছেন এসব দোকানে। বিক্রেতারা জানান, কেবল শখের বশেই নয়, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের তাগিদে অনেকেই এখন রান্নার কাজে মাটির পাত্র বেছে নিচ্ছেন।

ছোট–বড় বর্ণিল ফুলদানি
ছোট–বড় বর্ণিল ফুলদানি

তবে এই পসরার পেছনে রয়েছে এক বড় জনগোষ্ঠীর কঠোর পরিশ্রম ও সংগ্রামের গল্প। মৃৎশিল্পকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে শত শত মানুষের জীবন-জীবিকা। বংশপরম্পরায় পাওয়া এই শিল্পকে আঁকড়ে ধরে তারা যেমন ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখছেন, তেমনি এটি তাদের উপার্জনের প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সঞ্চয়ের জন্য মাটির ব্যাংক পাওয়া যাচ্ছে ফুটপাতের দোকানে
সঞ্চয়ের জন্য মাটির ব্যাংক পাওয়া যাচ্ছে ফুটপাতের দোকানে

ক্রেতারা বলছেন, মাটির জিনিসের এই শৈল্পিক রূপ ঘরকে যেমন স্নিগ্ধতা দেয়, তেমনি এটি আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা আর আধুনিক বিপণন ব্যবস্থা পেলে এই মৃৎশিল্প আরও বিস্তৃত হবে এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরদের জীবনমান উন্নত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button