বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

সাদাপাথরে পাথর লুট রুখতে গিয়ে রক্তাক্ত স্বেচ্ছাসেবী: উত্তাল কোম্পানীগঞ্জ, গ্রেপ্তার ২

সিলেট ব্যুরো

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আর স্বচ্ছ জলের আহ্বানে যেখানে পর্যটকের মেলা বসে, সেই সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর এলাকা এখন উত্তপ্ত। পাথরখেকোদের থাবা থেকে সরকারি সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন এক নির্ভীক তরুণ। তাঁর অপরাধ? তিনি প্রশাসনের হয়ে পাথর চুরি ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন। বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন রাসেল মিয়া নামের ওই স্বেচ্ছাসেবী। এ ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী, ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

ঘটনার নেপথ্যে

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের রেলওয়ে রজ্জুপথ (রোপওয়ে) এলাকাটি দীর্ঘদিনের সরকারি সম্পদ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাদাপাথর ও বালু লুটপাট বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৩ সদস্যের একটি বিশেষ স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করা হয়েছিল। এই দলের সদস্য হিসেবেই গতকাল শনিবার বিকেলে রাসেল মিয়াসহ তিনজন স্বেচ্ছাসেবী রোপওয়ে এলাকায় টহল দিচ্ছিলেন।

সরেজমিনে জানা যায়, একদল পাথর চোর অবৈধভাবে পাথর সরানোর চেষ্টা করলে রাসেল ও তাঁর সঙ্গীরা বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পাথরখেকোরা তাঁদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হামলায় রাসেল মিয়া গুরুতর জখম হন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

প্রতিবাদে উত্তাল সাদাপাথর ঘাট

এদিকে রাসেলের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটকবাহী নৌকার মাঝি এবং আলোকচিত্রীরা। আজ রোববার দুপুরে সাদাপাথর ১০ নম্বর ঘাট এলাকায় আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তাঁরা প্রশাসনের প্রতি তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। প্রতিবাদকারীদের সাফ কথা—আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করলে সাদাপাথরের সকল পর্যটন ঘাট ও দোকানপাট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে।

পুলিশি তৎপরতা ও বর্তমান অবস্থা

হামলার ঘটনায় রাসেলের বাবা আলী হোসেন বাদী হয়ে আজ কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম খান জানান, “ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে শামছুল আলম ও বিশ্ব গোস্বামী নামের দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতেও পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

প্রকৃতি আর সম্পদ রক্ষার লড়াইয়ে রাসেলের এই আত্মত্যাগ কোম্পানীগঞ্জের সচেতন মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এখন সবার নজর প্রশাসনের দিকে—পাথর লুটপাটের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে কি?

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button