পিলখানা ট্র্যাজেডি কি সেলুলয়েডে আনছেন রাফী? বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে বড় ঘোষণা ঢাকাই সিনেমার এই ‘মাস্টারমাইন্ডের’
বিনোদন ডেস্ক

পিলখানার সেই রক্তাক্ত স্মৃতি আজও কাঁদায় বাঙালিকে। ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনের প্রাণহানির সেই ভয়াবহ অধ্যায় এবার উঠে আসতে পারে রূপালি পর্দায়। সত্য ঘটনাকে পর্দায় জীবন্ত করে তুলতে সিদ্ধহস্ত নির্মাতা রায়হান রাফী এবার তাঁর পরবর্তী বড় লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিতে চান ‘বিডিআর বিদ্রোহ’ বা পিলখানা ট্র্যাজেডিকে।
সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় পডকাস্টে অংশ নিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের চড়াই-উতরাই ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন ‘তুফান’ খ্যাত এই পরিচালক। সেখানেই তিনি বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে সিনেমা নির্মাণের প্রবল ইচ্ছার কথা জানান।
কেন বিডিআর বিদ্রোহ?
রাফী জানান, পর্দার আড়ালের সত্যকে সামনে আনাই তাঁর সিনেমার মূল দর্শন। পিলখানা নিয়ে তিনি বলেন, “এতজন আর্মি অফিসারকে মেরে ফেলা হলো, একের পর এক লাশ বের হলো, গণকবর—পুরো যুদ্ধের মতো এক বিভীষিকা। আসলে ভেতরে কী ঘটেছিল? সেই সত্য গল্পটা আমি বলতে চাই।” তবে তাড়াহুড়ো নয়, সঠিক তথ্য ও গবেষণার মাধ্যমেই এই সংবেদনশীল বিষয়টিকে পর্দায় আনতে চান তিনি। তিনি মনে করেন, সত্য ঘটনা নিয়ে সিনেমা বানালে সমাজে অপরাধীদের প্রতি ঘৃণা তৈরি হয় এবং মানুষ সচেতন হয়।
মাদ্রাসা থেকে তারেক মাসুদের অনুসারী
পডকাস্টে রাফী তাঁর জীবনের অজানা অধ্যায়গুলোও শেয়ার করেন। মাদ্রাসায় বড় হওয়া এই তরুণের সিনেমার স্বপ্ন দেখা মোটেও সহজ ছিল না। কিন্তু তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’ দেখে তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন, মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ড থেকেও বিশ্বমানের সিনেমা বানানো সম্ভব। এমনকি প্রিয় নির্মাতাকে এক নজর দেখার জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পোস্টার আঁকড়ে ধরে তিন দিন অপেক্ষা করার সেই সংগ্রামের দিনগুলোর কথাও তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে স্মরণ করেন।
প্রত্যাখ্যান থেকে ব্লকবাস্টার
আজকের সফল রাফীকে একসময় ফিরতে হয়েছে অনেক পরিচালকের দরজায় সহকারী হওয়ার আশায়। নিউমার্কেট থেকে মোহাম্মদপুর পর্যন্ত সারা দিন ঘুরেও যখন কাজ পাননি, তখন নিজেই জেদ করে শর্ট ফিল্ম বানানো শুরু করেন। বোনের রুমে লুকিয়ে শ্যুট করা সেই ‘আজব বাক্স’ বা বন্ধুদের নিয়ে বানানো ‘বেওয়ারিশ’ আজ তাঁকে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। ‘পোড়ামন ২’ দিয়ে শুরু করে ‘পরাণ’, ‘সুড়ঙ্গ’ কিংবা ‘তুফান’—প্রতিটি কাজেই তিনি দেখিয়েছেন সাহসিকতা।
আসছে আরও বড় চমক
বিডিআর বিদ্রোহের পাশাপাশি রাফী বর্তমানে ব্যস্ত তাঁর নিজের প্রযোজনার সিনেমা ‘প্রেশার কুকার’ নিয়ে। এছাড়া আসছে বড় বাজেটের হরর সিনেমা ‘আন্ধার’, যেখানে প্রায় ৫০ শতাংশ কাজে ব্যবহৃত হয়েছে অত্যাধুনিক ভিএফএক্স।
নতুনদের উদ্দেশ্যে রাফী বলেন, “বড় বাজেটের অপেক্ষা না করে হাতের মোবাইল ফোন দিয়েই শুরু করুন। প্রতিভা থাকলে পৃথিবী আপনাকে চিনে নেবে।”
এখন দেখার বিষয়, পিলখানার সেই ক্ষতবিক্ষত ইতিহাসকে রাফী তাঁর ক্যামেরায় কীভাবে ফুটিয়ে তোলেন।







