বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সেবা বন্ধ করা যাবে না: অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

দেশের নাগরিকদের ডিজিটাল অধিকার ও তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এখন থেকে কোনো অবস্থাতেই ইন্টারনেট বা টেলিযোগাযোগ সেবা বন্ধ করা যাবে না। একই সঙ্গে সিম বা ডিভাইস রেজিস্ট্রেশনের তথ্য ব্যবহার করে নাগরিকদের ওপর নজরদারি বা হয়রানি করাকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) অধ্যাদেশ’ চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বুধবার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

অধ্যাদেশের মূল দিকসমূহ:

  • বিটিআরসির স্বাধীনতা নিশ্চিত: ২০১০ সালের বিতর্কিত সংশোধনী বাতিল করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) স্বাধীনতা ও জবাবদিহি ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এখন থেকে জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু লাইসেন্স ছাড়া বাকি সব লাইসেন্স ইস্যু করার একক এখতিয়ার থাকবে বিটিআরসির।

  • ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা: সিম কার্ড বা মোবাইল ডিভাইসের তথ্যের অপব্যবহার করে কোনো নাগরিককে নজরদারি বা হয়রানি করা যাবে না। এটি এখন থেকে আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

  • অযৌক্তিক অপরাধের বিলোপ: ‘স্পিচ অফেন্স’ বা মতপ্রকাশের ওপর বিধিনিষেধের ধারাগুলো পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কেবল সহিংসতার উসকানি বা আহ্বানকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

  • স্বচ্ছতা ও গণশুনানি: বিটিআরসির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে প্রতি চার মাসে অন্তত একটি গণশুনানি আয়োজন করতে হবে। এসব শুনানির ফলোআপ বিটিআরসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রশাসনিক ভারসাম্য ও সংসদীয় তদারকি

টেলিযোগাযোগ খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির নেতৃত্বে একটি ‘জবাবদিহি কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনতে ইনডিপেনডেন্ট স্টাডির মাধ্যমে লাইসেন্স অনুমোদনের প্রক্রিয়া চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে অবাধ তথ্যপ্রবাহের পথ যেমন সুগম হবে, তেমনি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের আশঙ্কাও কমে আসবে।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button