
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি স্পষ্ট জানিয়েছে, ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনের মতো কোনো ‘ভারসাম্যহীন’ বা ‘ইমব্যালান্সড’ নির্বাচন এবার আর মেনে নেওয়া হবে না।
আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এ কথা বলেন। ইসির বিরুদ্ধে একটি বিশেষ দলের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন একটি বিশেষ দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। প্রধান উপদেষ্টা যদি এর প্রতিকার না করেন, তবে জামায়াত কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।”
অভিযোগের আঙুল যেদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে ইসির বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তোলার ঠিক একদিন পরই জামায়াতের পক্ষ থেকে এই জোরালো বক্তব্য এলো। আবদুল্লাহ তাহের অভিযোগ করেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইসি চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, প্রশাসনের বেশ কিছু কর্মকর্তা এবং কিছু উপদেষ্টা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সঠিক তথ্য দিচ্ছেন না, যা দেশকে একটি বিতর্কিত নির্বাচনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
অতীতের স্মৃতি ও বর্তমান রাজনীতি ২০০৮ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে এই জামায়াত নেতা বলেন, সেই নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে থেকে জামায়াত মাত্র ২টি আসন পেয়েছিল, যা ছিল চরম ভারসাম্যহীন। এরপর আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবারের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না। উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না।
ইসলামি দলগুলোর অবস্থান নির্বাচনে ইসলামি দলগুলোর ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আবদুল্লাহ তাহের বলেন, “দলের ভিন্ন সিদ্ধান্ত থাকতে পারে, কিন্তু এ দেশের ইসলামপন্থীরা পরিবর্তনের পক্ষে মনস্থির করেছেন। জনগণের রায়ে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।”
তিনি সাফ জানিয়ে দেন, দেশের মালিক জনগণ এবং তাদের সম্মতির প্রতিফলনই হতে হবে এই নির্বাচন ও গণভোট। যদি ইসি নিরপেক্ষতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়, তবে রাজপথে নামার ইঙ্গিতও দেন তিনি।







