বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সঙ্গে ভারতের ‘গোপন চুক্তি’র অভিযোগ ডা. তাহেরের

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণার প্রথম দিনেই রাজপথের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিরুদ্ধে ভারতের সঙ্গে ‘তিন শর্তে গোপন চুক্তি’র বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। আজ বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ছুফুয়া এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ডা. তাহের ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা ‘আনন্দবাজার’-এর উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করেন, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলের শীর্ষ নেতা ভারতের সঙ্গে তিনটি সুনির্দিষ্ট শর্তে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। শর্তগুলো হলো— ১. বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের সঙ্গে যুক্তদের পুনর্বাসন করা। ২. ভারতের অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশ কোনো প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বা অস্ত্র কিনতে পারবে না। ৩. এ দেশের ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোকে কঠোরভাবে দমন করতে হবে।

কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের এই প্রার্থী বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “এমন গুরুতর সংবাদ একটি আন্তর্জাতিক মানের পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট দলটির পক্ষ থেকে কোনো জোরালো প্রতিবাদ বা খণ্ডন করা হয়নি, যা দেশপ্রেমিক জনগণের মনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।”

নির্বাচনী প্রচারণায় ডা. তাহের হিন্দুদের সম্পদ দখলের অভিযোগকেও নাকচ করে দেন। তিনি জানান, আনন্দবাজার পত্রিকা থেকে সরাসরি তাঁর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, জামায়াত কখনো কারো সম্পদ দখল করেনি। বরং যারা ভারতের বন্ধু হিসেবে পরিচয় দেয়, তারাই অতীতে এ দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমালের ক্ষতি করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

১০-দলীয় জোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের জোটে বীরবিক্রম খেতাবধারী মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী তরুণ প্রজন্মও রয়েছে। আমরা নির্বাচিত হলে দেশ চাঁদাবাজদের হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং মানুষের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।”

বিএনপি মহাসচিবের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের সমালোচনা করে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, “আগামী নির্বাচন নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ কি আবার দখলদার ও চাঁদাবাজদের রাজত্বে ফিরে যাবে, নাকি সব মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও মুক্তির নতুন দিগন্তে পা রাখবে।”

চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক জিএস খলিলুর রহমান মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে জেলা ও উপজেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। এর আগে ডা. তাহের স্থানীয় ছুফুয়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করেন এবং ভোটারদের কাছে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পজিশনে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button