মেট্রোরেল: ভোরে যাত্রী নেই, রাতে তিল ধারণের জায়গা নেই
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

রাজধানীর যানজটহীন যাতায়াতের ভরসার নাম মেট্রোরেল। তবে বর্তমান সময়সূচি নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গত অক্টোবর থেকে সকালে ও রাতে আধা ঘণ্টা করে মোট এক ঘণ্টা সময় বাড়ানো হলেও এর সুফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরিসংখ্যান বলছে, ভোরের বাড়তি সময়ে ট্রেন প্রায় খালি চললেও রাতের শেষ সময়ে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
ভোরের চিত্র ও যাত্রী খরা ডিএমটিসিএল-এর সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যায়, গত ১১ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত মাত্র ১৫১ জন যাত্রী মেট্রোরেল ব্যবহার করেছেন। উত্তরার দুটি স্টেশনে যাত্রী সংখ্যা ছিল একেবারেই নগণ্য—উত্তরা দক্ষিণে মাত্র একজন এবং উত্তরা মধ্য স্টেশনে মাত্র আটজন যাত্রী পাওয়া গেছে। শীতের সকালে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ভোরের এই বাড়তি সময়টি আপাতত খুব একটা কাজে আসছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাতের ভোগান্তি ও দাবি ভোরের ঠিক উল্টো চিত্র দেখা যায় রাতে। ওই একই দিনে রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত যাত্রী সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৭৪৯ জন। শাহবাগ, ফার্মগেট বা মতিঝিলের মতো ব্যস্ত স্টেশনগুলোতে দেখা গেছে, শেষ ট্রেনটিতেও যাত্রীদের তিল ধারণের জায়গা থাকছে না। অনেক যাত্রী স্টেশনে ঢুকেও ট্রেনের জায়গা না পেয়ে বিকল্প হিসেবে বাসে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।
আজিজ সুপার মার্কেটের একজন কর্মী মো. শাহজালাল জানান, কাজ শেষ করে প্রায়ই তিনি রাত ১০টা ২০ মিনিটের শেষ ট্রেনটি ধরতে পারেন না। এতে তার বাসায় ফিরতে অনেক দেরি হয়ে যায়। তার মতো অসংখ্য কর্মজীবীর দাবি, সকালে সময় না বাড়িয়ে বরং রাতে ট্রেনের সময় আরও অন্তত এক ঘণ্টা বাড়ানো হোক।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানিয়েছে, গত অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়তি এক ঘণ্টায় প্রায় ৮ লাখ ৩৭ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেছেন, যা প্রতিষ্ঠানের আয় বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রেখেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে।
ডিএমটিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ জানান, আগামী মাসে যাত্রী চলাচলের প্যাটার্ন নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা হবে। তিনি বলেন, “রাতে চাহিদা বেশি থাকলে অবশ্যই সময় বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি সকালের বাড়তি সময়টি আদৌ প্রয়োজন আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।”
বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চলাচল করলেও চলতি বছরের শেষ নাগাদ কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির বর্তমান ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা।
যাত্রীরা আশা করছেন, কর্তৃপক্ষ কেবল পরিসংখ্যান নয়, বরং সাধারণ মানুষের বাস্তব ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে রাতের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনবে।







