‘২০০০ টাকার কার্ড পেতে ১০০০ টাকা ঘুষ লাগবে না তো?’-নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়ে নাহিদ ইসলামের বিস্ফোরক প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

নির্বাচনের ডামাডোলে বড় দলগুলোর দেওয়া আকাশচুম্বী প্রতিশ্রুতি কি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে, নাকি মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে যাবে—এমন এক মৌলিক প্রশ্ন তুলেছেন তরুণ প্রজন্মের আলোচিত রাজনৈতিক সংগঠন এনসিপির (NCP) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বিএনপির প্রস্তাবিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, দুর্নীতির শিকড় উপড়ে না ফেলে কেবল কার্ড বিলিয়ে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব নয়।
প্রতিশ্রুতির অন্তরালে আশঙ্কার সুর
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে জামায়াতে ইসলামীর এক নির্বাচনী জনসভায় শরিক দলের নেতা হিসেবে বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। সেখানে তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম আকর্ষণ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। নাহিদ বলেন, “আমরা শুনছি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। আমরাও চাই জনগণ সুবিধা পাক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ২০০০ টাকার সুবিধা সম্বলিত এই কার্ড পেতে সাধারণ মানুষকে আবার ১০০০ টাকা ঘুষ দিতে হবে না তো?”
তিনি আরও যোগ করেন, ঘুষ ও চাঁদাবাজি নির্মূল করতে না পারলে এই সব সরকারি সুবিধা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের হাত পর্যন্ত পৌঁছাবে না।
‘ঋণখেলাপিদের সংসদে নিয়ে যাওয়ার দ্বিচারিতা’
বক্তব্যে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, একদিকে সাধারণ মানুষকে কার্ড দেওয়ার স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে, অন্যদিকে বড় বড় ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দিয়ে সংসদে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন ও আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা চলছে।
তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “যারা জনগণের টাকা মেরে দিয়ে ঋণ পরিশোধ করেনি, তারা সংসদে গেলে কি আর সুবোধ হয়ে যাবে? এরা আবারও ঋণ নিবে, টাকা লুট করবে এবং বিদেশে পাচার করবে। এই লুটেরা শ্রেণির হাত থেকে দেশ বাঁচাতে আমরা গণঅভ্যুত্থান করেছি, এদেরকে বাংলাদেশের জনগণ আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না।”
বস্তিবাসী ফ্ল্যাট নয়, মর্যাদা চায়
বস্তিবাসীদের জন্য ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে এই তরুণ নেতা বলেন, “বস্তিবাসী আমাদের কাছে ফ্ল্যাট চায়নি; তারা চায় নিরাপদ জীবন এবং মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান। অতীতে যারা ফ্ল্যাট দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে, তারাই বস্তিতে আগুন দিয়েছে এবং উচ্ছেদের পরিকল্পনা করেছে। আমরা আল্লাহ না করুক, এবারও তেমন কোনো গোপন পরিকল্পনা আছে কি না তা নিয়ে চিন্তিত।”
ভোটের মালিক জনগণ
বক্তব্যের শেষে তিনি ভোটারদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জান্নাতের মালিক আল্লাহ আর ভোটের মালিক জনগণ। মানুষ বুঝে গেছে কারা নির্বাচনের আগে প্রতারণা করে আর কারা দেশের মানুষের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। যারা সংস্কারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে লুণ্ঠনতন্ত্র কায়েম করতে চায়, জনগণ তাদের উপযুক্ত জবাব দেবে।”







