সিঙ্গুরে মোদি: শিল্পের প্রতিশ্রুতি মেলেনি, শর্ত দিলেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির
নিজস্ব প্রতিবেদক | সিঙ্গুর

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সিঙ্গুর সফর ঘিরে হুগলি জেলাজুড়ে যে প্রত্যাশার পারদ চড়েছিল, শেষ পর্যন্ত তার প্রাপ্তি যোগ হলো সামান্যই। গতকাল রোববার বিকেলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ‘আঁতুড়ঘর’ হিসেবে পরিচিত সিঙ্গুরে পা রেখেছিলেন মোদি। কিন্তু স্থানীয়রা যে শিল্পায়নের সুনির্দিষ্ট বার্তার অপেক্ষায় ছিলেন, তার পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রীর মুখে শোনা গেল কেবলই শর্তের কথা।
প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হলেই পশ্চিমবঙ্গে শিল্প আসবে।’ মোদির এমন অবস্থানে হতাশ হয়েছেন সিঙ্গুরবাসী, এমনকি খোদ রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বও কিছুটা বিব্রত বলে জানা গেছে।
প্রত্যাশার আলো জ্বলেনি সিঙ্গুরে টাটার সেই ঐতিহাসিক ৯৯৭ একর জমির স্মৃতি এখনো ফিকে হয়ে যায়নি। অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি আন্দোলনের ওপর ভর করেই ২০১১ সালে বাম সরকারের পতন ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা। টাটা বিদায় নেওয়ার দীর্ঘ ১৯ বছর পর মোদির আগমনে আশায় বুক বেঁধেছিলেন স্থানীয়রা। বিজেপিও প্রচার চালিয়েছিল যে, এই জনপদ এবার শিল্পায়নের নতুন বার্তা পাবে। কিন্তু মোদি গতকাল সাফ জানিয়ে দিলেন, এ রাজ্যে বিনিয়োগ এবং শিল্পায়নের একমাত্র চাবিকাঠি হলো আইনশৃঙ্খলা—যা কেবল বিজেপি সরকার গঠিত হলেই সম্ভব।
শর্তের বেড়াজালে রূপরেখা মোদির বক্তব্যের সারমর্ম ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট—ততদিন শিল্প নয়, যতদিন রাজ্যে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি না হয়। তিনি সিঙ্গুরের উন্নয়নের সরাসরি কোনো ঘোষণা না দিয়ে বরং রাজনৈতিক রূপরেখা দিয়ে গেছেন। তার মতে, ক্ষমতার রদবদল এবং বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠাই হলো এ অঞ্চলের ভাগ্যোন্নয়নের প্রথম ধাপ।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণকে কেন্দ্র করে তোপ দেগেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সিঙ্গুরের ভাষণ শুনে মানুষ হতাশ। তিনি সিঙ্গুরবাসীর জন্য কোনো প্রত্যাশার আলো জ্বালাতে পারেননি।”
সিঙ্গুরের পরিত্যক্ত জমিতে টাটার ন্যানো কারখানার কাজ ৮০ শতাংশ শেষ হয়েও তা আজ জরাজীর্ণ। সেই জমিতে শিল্প ফিরিয়ে আনার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি মোদির কণ্ঠে না থাকায়, সিঙ্গুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে এক ধরনের শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।







