রাষ্ট্র সংস্কারে ‘হ্যাঁ’ ভোট: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ঘরে ঘরে প্রচারের মহাপরিকল্পনা সরকারের
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই প্রচারণার মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে দেশের সব পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে। পাশাপাশি ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি ঘর এবং পল্লী বিদ্যুতের কোটি কোটি গ্রাহকের কাছেও পৌঁছে দেওয়া হবে পরিবর্তনের বার্তা।
রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এক সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “এবারের গণভোট কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে নয়, বরং জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লড়াই। একটি মানবিক রাষ্ট্র গড়তে হলে ‘হ্যাঁ’ রায়ের কোনো বিকল্প নেই।”
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচারণার কৌশল: সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল ও মাদ্রাসায় ‘পরিবর্তনের জন্য হ্যাঁ’ শিরোনামের লিফলেট ও পুস্তিকা বিতরণ করা হবে। তরুণ প্রজন্মের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যাটফর্মগুলোতে গণভোট নিয়ে নির্মিত ডকুমেন্টারি, ভিডিও ক্লিপ ও গান রিলিজ করা হবে। এছাড়াও ক্যাম্পাসগুলো ব্যানার, ফেস্টুন ও স্টিকারে সাজিয়ে তোলা হবে।
ঘরে ঘরে পৌঁছাবে লিফলেট: শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই নয়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতিটি বাড়িতেও পৌঁছে দেওয়া হবে এই লিফলেট। রাজধানীর উঁচু ভবনগুলোতে ঝুলবে ড্রপ-ডাউন ব্যানার, আর সড়কদ্বীপগুলোতে বসানো হবে দৃষ্টিনন্দন ফেস্টুন। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সচিবের সঙ্গে এক বৈঠকে এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
পল্লী বিদ্যুতের মাধ্যমে গ্রাম পর্যায়ে প্রচারণা: শহরের পাশাপাশি গ্রামের ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) বড় ভূমিকা নেবে। প্রতিষ্ঠানটির ৩ কোটি ৭২ লাখ গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ বিল বা বিশেষ মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ লিফলেট পৌঁছে দেওয়া হবে। আরইবির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল এস এম জিয়াউল আলম জানান, তৃণমূল পর্যায়ে এই সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরতেই এ পদক্ষেপ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গণভোটের এই ব্যাপক প্রচারণা জুলাই বিপ্লব পরবর্তী রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রক্রিয়ায় জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে এবং ভবিষ্যতের ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপন করবে।







