বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
প্রচলিত

সংস্কারের গণভোট: কেন ‘হ্যাঁ’ জয়ী করা অন্তর্বর্তী সরকারের নৈতিক দায়িত্ব?

জোসেফ ডি কষ্টা

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তবে একই দিনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। সেটি হলো—গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রস্তাব সংবলিত ‘গণভোট’। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের সক্রিয় অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সংস্কারের পক্ষে জনসমর্থন আদায় করা এই সরকারের কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা নয়, বরং এটি ৫ আগস্টের বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়নের এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব।

গত ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত এই অন্তর্বর্তী সরকার কেবল একটি রুটিনমাফিক প্রশাসন নয়। এটি একটি রাজনৈতিক ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার, যার প্রধান কাজ হলো রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান ঘটানো। এই প্রেক্ষাপটে ‘জুলাই সনদ’ বা সংবিধান সংস্কারের যে প্রস্তাবগুলো গণভোটে রাখা হয়েছে, তা কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট দলের নয়; বরং এটি জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত্যের একটি দলিল।

সরকারের সক্রিয়তা কেন জরুরি? অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সরকার কেন নিরপেক্ষ না থেকে গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে? এর উত্তর হলো, এই সরকার কোনো নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয় যে কেবল ভোট করেই বিদায় নেবে। এই সরকারের মূল ভিত্তিই হলো সংস্কার। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা এবং মৌলিক অধিকারের সুরক্ষার মতো প্রস্তাবগুলো নিয়ে গঠিত এই গণভোট। এই সংস্কারগুলো সফল না হলে দেশ আবারও ফ্যাসিবাদী অন্ধকারে নিমজ্জিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে জনস্বার্থেই এই প্রস্তাবগুলোর পক্ষে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করা সরকারের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।

সমালোচকদের উদ্দেশ্য কী? অভিযোগ উঠেছে, যারা বিগত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের সুবিধাভোগী ছিলেন, তারাই এখন গণভোটের প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন। তারা একে গতানুগতিক নির্বাচনের কারচুপির সঙ্গে তুলনা করতে চাইছেন। অথচ এই ভোটে সরকারের কোনো নিজস্ব ‘লাভ-লোকসান’ নেই। কারণ সরকারের কোনো সদস্যই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না।

জনগণকে কেন বেছে নিতে হবে ‘হ্যাঁ’? বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই গণভোট মূলত দুটি পথের মধ্যে একটিকে বেছে নেওয়ার সুযোগ। এক পক্ষে রয়েছে ভোটাধিকার হরণ ও লুটপাটের সেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা, আর অন্য পক্ষে রয়েছে একটি স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার। যদি জনগণ এই সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ রায় না দেয়, তবে ভবিষ্যতে আবারো রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করার সুযোগ অবারিত হতে পারে।

পরিশেষে, জুলাই বিপ্লবের তরুণদের আত্মত্যাগ এবং জাতীয় ঐক্যমত্যের যে ফসল এই ‘জুলাই সনদ’, তাকে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই এখনকার প্রধান চ্যালেঞ্জ। সেই লক্ষ্যে জনগণকে সচেতন করা এবং সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট চাওয়াকে অন্তর্বর্তী সরকারের নৈতিক দায়িত্ব হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button