বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

সুনামগঞ্জে নির্বাচনী সমীকরণ: বিদ্রোহী কাঁটায় বিএনপি, জামায়াতের কৌশলী ছাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক | সুনামগঞ্জ

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের রাজনীতিতে বইছে নতুন হাওয়া। জেলার পাঁচটি আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে একদিকে যেমন বড় দলগুলোর মনোনীত প্রার্থীরা রয়েছেন, অন্যদিকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বিএনপির দুই হেভিওয়েট ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় ইতিমধ্যে তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের শরিক জামায়াতে ইসলামীর একটি আসনে প্রার্থী প্রত্যাহার জেলার নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের ৫টি আসনে শেষ পর্যন্ত ২৩ জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে টিকে আছেন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র ৪ প্রার্থীর মধ্যে দুজনই বিএনপির পদত্যাগী নেতা।

সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ): এই আসনে মূল লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ। তবে তাঁর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন জেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা মো. আনোয়ার হোসেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আনোয়ার হোসেনের দাবি, স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় তিনি ভোটের মাঠে নেমেছেন।

এদিকে এই আসনে জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থী ইয়াসীন খানকে প্রত্যাহার করে নেওয়ায় জোটের রাজনীতিতে এক ধরনের ‘ছাড়’ পরিলক্ষিত হচ্ছে। তবে জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে অন্য কোনো শরিক প্রার্থীকে সমর্থন দেয়নি। ফলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শাহীনুর পাশা চৌধুরীসহ জোটের অন্য তিন প্রার্থীর জন্য আসনটি এক প্রকার উন্মুক্ত রয়ে গেছে।

সুনামগঞ্জ-৪ (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর): সদর আসনে বিএনপির প্রার্থী নূরুল ইসলামের বিপরীতে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন দলের প্রবীণ নেতা দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে উপজেলা ও পৌর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জাকেরীন এবার স্বতন্ত্র লড়াইয়ে নামায় তাঁকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। তাঁর এই বিদ্রোহী অবস্থান আসনটিতে ভোটের হিসেবে বড় ধরণের ওলটপালট ঘটাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই আসনে জাকেরীন ও নূরুল ইসলামের পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর মো. শামছ উদ্দিন এবং জাতীয় পার্টির নাজমুল হুদাও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

সব মিলিয়ে সুনামগঞ্জের ভোটের লড়াই এখন বহুমাত্রিক। একদিকে দলীয় প্রার্থীর সম্মান রক্ষা, অন্যদিকে বিদ্রোহীদের জনপ্রিয়তার পরীক্ষা—সুনামগঞ্জের নির্বাচনী ময়দানে শেষ হাসি কে হাসবেন, তা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button