দিল্লির ‘ডিপ স্টেট’ মিশনে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন: নেপথ্যে কি হাসিনা-নৈরাজ্য ছক?
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ভাগ্যনির্ধারণী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ঠিক এই মুহূর্তেই প্রতিবেশী দেশ ভারতের ‘ডিপ স্টেট’ বা নীতিনির্ধারক মহলের রহস্যময় তৎপরতা নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে কূটনৈতিক অঙ্গন। অভিযোগ উঠেছে, আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ভন্ডুল করা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটকে ব্যর্থ করতে দিল্লি এক নজিরবিহীন মিশনে নেমেছে।
দিল্লিতে হাসিনার অডিও বার্তা ও অস্থিরতার উসকানি গত ২৩ জানুয়ারি দিল্লিতে ‘সেফ ডেমোক্রাসি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে আত্মগোপনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি রেকর্ড করা অডিও বার্তা প্রচার করা হয়। গোয়েন্দা সংস্থার তদারকিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা সরাসরি দলীয় নেতাকর্মীদের নির্বাচন বয়কট ও প্রতিহতের ডাক দেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে দেওয়া এই বক্তব্যকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ‘সহিংসতা উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দিল্লির এই পদক্ষেপকে সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত ও বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছে।
টার্গেট যখন ‘গণভোট’ ও ‘ভোটার উপস্থিতি’ বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লি এখন সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে আসন্ন গণভোটে ‘না’ জয়যুক্ত করতে। দিল্লির থিংক ট্যাংকগুলো চাইছে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি যেন ৫০ শতাংশের নিচে থাকে, যাতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রমাণ করা যায় যে আওয়ামী লীগহীন নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি ভারতের বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টিও প্রকাশ্যে ‘না’ ভোটের প্রচার শুরু করেছে।
রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের উদ্বেগ বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরী মনে করেন, বিএনপি ও জামায়াত জোটের শক্ত অবস্থানের আভাস পেয়ে ভারত সরকার ‘নার্ভাস’ হয়ে পড়েছে। তাই তারা অরাজকতা তৈরি করে নির্বাচন অনিশ্চিত করতে চায়। বিশিষ্ট বিশ্লেষক ড. মাহবুব উল্লাহ এই ঘটনাকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে গভীর ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এদিকে, সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া এক কড়া প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। তিনি দালাইলামার প্রসঙ্গ টেনে সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের পরিণতি ভারতের জন্য সুখকর নাও হতে পারে।
কূটনৈতিক সংকট ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ সরকার বারবার হাসিনাকে হস্তান্তরের অনুরোধ জানালেও ভারত তাতে কর্ণপাত করছে না। উল্টো সে দেশের মাটিতে বসে বাংলাদেশের সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের সুযোগ করে দেওয়া দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে খাদের কিনারে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।







