বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

নামের আগে ‘বাল’ আর ‘ছাল’ যোগ করায় পিতার বিরুদ্ধে ২ ভাইয়ের মামলা, গ্রেফতার ৬৫ বছর বয়সী বাবা কামাল হোসেন

ডিগবাজ: কণ্ঠস্বর ফান ডেস্ক

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

সৃজনশীলতা যে কখনো কখনো কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে, তার জ্বলন্ত প্রমাণ হলেন পল্লবীর বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন (৬৫)। শখ করে দুই ছেলের নাম রেখেছিলেন ইকবাল (২৪) ও ফয়ছাল (২১)। কিন্তু সেই শখের নামই এখন তাঁর গলায় ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাস্যকর নামের জেরে সমাজে হাসির পাত্র হয়ে ওঠায় ক্ষুব্ধ দুই ছেলে শেষমেশ বাবাকে টেনে নিয়েছেন আদালতে, যার ফলস্বরূপ গত ৪ দিন ধরে জেলহাজতে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন বেচারা কামাল সাহেব।

নাম নিয়ে তামাশা, অতঃপর মামলা-জেল: ইকবাল ও ফয়ছাল যেখানেই যান, সেখানেই তাঁদের নাম শুনে সবাই হেসে কুটি কুটি। ভার্সিটি থেকে অফিস-আদালত, সবখানেই “বালইকবাল” আর “ছালফয়ছাল” নামে টিটকারি শুনতে শুনতে তাঁদের জীবন অতিষ্ঠ। ইকবাল বলেন, “চাকরির ইন্টারভিউতে গেলে সিরিয়াসলি নেয় না, সবাই খালি হাসে। আমার আত্মসম্মান কোথায় থাকে?” ফয়ছালও যোগ করেন, “ছোটবেলা থেকেই ‘ছালফয়ছাল’ বলে সবাই মজা করে। আর সহ্য হয় না!” এই অপমানের চূড়ান্ত প্রতিশোধ নিতেই দুই ভাই মিলে বাবার বিরুদ্ধে মামলা করে তাঁকে হাজতে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

বাবার যুক্তি: “বংশপরম্পরা আর কাকতালীয় ঘটনা!” জেলহাজতে বসেও কামাল হোসেনের মুখে অবশ্য হাসির রেখা। তিনি গর্ব করে বলেন, “আমার দাদার নাম ছিল ‘বালকিসমত‘। বংশের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই বড় ছেলের নামে ‘বাল‘ যোগ করে ইকবাল রেখেছিলাম। কিন্তু ছোট ছেলে ফয়ছালের নামটা  কাকতালীয়, ইকবালের নামটা নিয়ে বিড়ম্বনা হওয়ার সুযোগ আছে কিন্তু ফয়ছালের নাম নিয়েও যে এলাকার পুংটা ছেলে মেয়েরা এমন কাজ করবে তা আমার ঘুণাক্ষরেও জানা ছিলনা। ছোটবেলায় ফয়ছাল একবার কাদায় পড়ে গিয়েছিল, তখন সবাই তাকে ‘ছালফয়ছাল‘ বলে ডেকেছিল। সেটাই ওর নাম হয়ে গেল। এখন আমার কুলাঙ্গার দুই ছেলে প্রতিশোধ নিতে আমাকেই জেলে পাঠাল! বাপ হয়ে ছেলের নাম রাখব, তাতেও এখন ওদের অনুমতি নিতে হবে নাকি?”

আইনজীবীরা হতবাক, ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা: আইনজীবীরাও এই নজিরবিহীন মামলা দেখে হতবাক। এক আইনজীবী হাসতে হাসতে বললেন, “এর আগে এমন আজব মামলা দেখিনি। মনে হচ্ছে, ভবিষ্যতে বাচ্চাদের নাম রাখার আগে বাবা-মায়েদের ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ নিতে হবে। কে জানে, হয়তো এরপর ‘নাম রাখা আইন’ নামে একটা নতুন আইনও চলে আসবে!”

এ ঘটনার পর পল্লবীজুড়ে এখন একটাই আলোচনা—কামাল হোসেন কি তাঁর “সৃজনশীল” নামের মাসুল গুনতে গুনতে বাকি জীবনটা জেলেই কাটাবেন, নাকি মুক্তি পাবেন? আর দুই ভাইয়ের “বালইকবাল” ও “ছালফয়ছাল” নাম কি সত্যিই তাঁদের কপালে হাসির ছাপ এঁকে দেবে, নাকি নতুন কোনো নাম নিয়ে তাঁরাও নতুন জীবনের সূচনা করবেন? সে উত্তর দেবে ভবিষ্যৎ!

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন
Back to top button