সিম্প্যাথি পেতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মিথ্যা বলছেন: মির্জা আব্বাস
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে উত্তাপ ছড়িয়েছে ডিম নিক্ষেপের এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আজ মঙ্গলবার হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে গণসংযোগে গিয়ে আক্রান্ত হন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও ১১-দলীয় ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এই ঘটনার জন্য তিনি সরাসরি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে দায়ী করলেও, মির্জা আব্বাস একে ‘মিথ্যা ও সস্তা জনপ্রিয়তার কৌশল’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
যা ঘটেছিল হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচনী প্রচারণায় হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে প্রবেশ করলে তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছোড়া হয়। এ সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তিনি সেখান থেকে সরে যান। পরে এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নাসীরুদ্দীন অভিযোগ করেন, মির্জা আব্বাসের কর্মী-সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর এই হামলা চালিয়েছে।
মির্জা আব্বাসের কড়া জবাব
বিকেলে নিজ নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট। জনগণের সহানুভূতি পাওয়ার জন্যই এসব মিথ্যাচার করা হচ্ছে। আমি ১৯৯১ সাল থেকে নির্বাচন করছি, আজ পর্যন্ত বিএনপির সমর্থকরা কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ওপর হামলা করেছে এমন কোনো রেকর্ড নেই।”
তিনি উল্টো অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নির্বাচন ভন্ডুল করার জন্য নানা উসকানি দিচ্ছে। আব্বাস তাঁর কর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “নির্বাচন আমাদের আন্দোলনের ফসল। এটি ভন্ডুল করার কোনো কারণ আমাদের নেই।”
আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাল্টা অভিযোগ
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে মির্জা আব্বাস বলেন, “শহরজুড়ে এনসিপি প্রার্থীর বিশাল আকৃতির রঙিন পোস্টার দেখা যাচ্ছে, যা আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। অথচ আমরা নিয়ম মেনে প্রচারণা চালাচ্ছি। নির্বাচন কমিশনের উচিত এই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা।”
সাবেক এই মন্ত্রী ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বলেন, ১৯৭৭ সালে ওয়ার্ড কমিশনার থেকে শুরু করে একাধিকবার সংসদ সদস্য হিসেবে এই এলাকার মানুষ তাঁকে চেনেন। তিনি পোস্টার বা ব্যানারে নয়, বরং জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েই ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হতে চান।







