পিঠা উৎসবে হট্টগোল: শান্তিনগরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর দফায় দফায় ডিম নিক্ষেপ
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

রাজধানীর শান্তিনগরে অবস্থিত হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে এক আনন্দঘন পিঠা উৎসব মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। মঙ্গলবার দুপুরে ওই কলেজে আয়োজিত উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দিতে গেলে হামলার শিকার হন ঢাকা-৮ আসনের ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। উত্তেজিত একদল যুবক তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম নিক্ষেপ করে এবং ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কলেজ প্রাঙ্গণে পৌঁছালে একদল ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে ধরে হেনস্তা করতে শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে তিনি তাঁর কর্মীদের নিয়ে কলেজের একটি ভবনের বারান্দায় আশ্রয় নিলেও হামলাকারীরা সেখানেও তাঁকে লক্ষ্য করে অনবরত ডিম ছুড়তে থাকে। এ সময় পাটওয়ারীর কর্মীরা পাল্টা স্লোগান দিলে পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে তিনি কলেজের সামনের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানান।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য সরাসরি বিএনপি ও ছাত্রদলকে দায়ী করেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকা-৮ আসনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নিজস্ব বাহিনীর সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে।
ঘটনার পর ফকিরেরপুল মোড়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “মির্জা আব্বাসের নির্দেশ ও তারেক রহমানের সম্মতিতে এই হামলা হয়েছে। একদিকে গণতন্ত্রের কথা বলবেন, অন্যদিকে রাজপথে বিরোধীদের সন্ত্রাসী কায়দায় দমন করবেন—এটা হতে দেওয়া হবে না। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব।” নাহিদ ইসলাম আরও জানান, এই হামলায় তাঁদের অন্তত ১২ জন কর্মী আহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবারও সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ময়লা পানি ও ডিম নিক্ষেপ করা হয়েছিল। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে একই ধরণের দ্বিতীয় হামলায় শান্তিনগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় নির্বাচনী উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে।
রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাহাৎ খান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে এবং বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা বা কাউকে আটকের খবর পাওয়া যায়নি।







