বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

ভ্যানে লাশের স্তূপ ও অগ্নিসংযোগ: সাবেক এমপি সাইফুলসহ ৬ জনের ফাঁসির আদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সেই বিভীষিকাময় দিন। সাভারের আশুলিয়ায় ভ্যানে লাশের স্তূপ করে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার সেই দৃশ্য আজও মানুষের মনে কাঁপুনি ধরায়। সেই নৃশংস ও বর্বরোচিত ঘটনার বিচারিক প্রক্রিয়ায় আজ এক ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

সাতজন মানুষকে হত্যা এবং ছয়জনের মৃতদেহ পুড়িয়ে তথ্য-প্রমাণ মুছে ফেলার দায়ে সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং আশুলিয়া থানার সাবেক ওসি সায়েদসহ মোট ৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আজ দুপুরে এই রায় ঘোষণা করেন।

সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম

রায়ের বিস্তারিত: কার কী সাজা?

ট্রাইব্যুনালের রায়ে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে আসামিদের কয়েকভাগে ভাগ করে সাজা প্রদান করা হয়েছে:

  • মৃত্যুদণ্ড (৬ জন): সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম, সাবেক ওসি এ এফ এম সায়েদ, সাবেক এসআই আবদুল মালেক, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার এবং যুবলীগ ক্যাডার রনি ভূঁইয়া।

  • যাবজ্জীবন কারান্ড (৭ জন): সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক এসপি মো. আসাদুজ্জামান রিপন, সাবেক অতিরিক্ত এসপি আবদুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত এসপি মো. শহিদুল ইসলাম, এবং সাবেক তিন পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, নির্মল কুমার দাস ও মো. আরাফাত হোসেন।

  • কারাদণ্ড (২ জন): সাবেক এসআই আরাফাত উদ্দীন ও কামরুল হাসানকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

  • ক্ষমা: এই মামলার অন্যতম আসামি সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হক রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) হওয়ায় আদালত তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।

ফিরে দেখা সেই নারকীয় ৫ আগস্ট

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন আশুলিয়া থানা এলাকায় এক বীভৎস দৃশ্য দেখা যায়। পুলিশের গুলিতে নিহত সাজ্জাদ হোসেন, আস-সাবুরসহ ছয়জনের দেহ একটি ভ্যানে স্তূপ করে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তখনো তাদের মধ্যে একজন জীবিত অবস্থায় যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন। কিন্তু অপরাধের চিহ্ন মুছে দিতে নির্মমভাবে পেট্রোল ঢেলে সেই লাশের স্তূপের ওপর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্ববিবেককে নাড়িয়ে দেওয়া সেই ভিডিওটি পরবর্তীতে জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও স্থান পায়।

পলাতক আসামিদের নিয়ে উদ্বেগ

১৬ জন আসামির মধ্যে ৮ জন বর্তমানে কারাগারে থাকলেও বাকি ৮ জন—যাদের মধ্যে সাবেক এমপি সাইফুল ও সাবেক ডিআইজি নুরুল ইসলাম রয়েছেন—এখনো পলাতক। আদালত তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার এবং সাজা কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছেন।

এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর পক্ষ থেকে জুলাই অভ্যুত্থান কেন্দ্রিক প্রথম রায়। এর আগে ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিলেন।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button