বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

নির্বাচন বয়কটের আহ্বানে বিতর্ক: বুর্জোয়া রাষ্ট্রব্যবস্থা বাতিলের দাবি পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির

সংসদীয় গণতন্ত্রকে ‘প্রতারণা’ আখ্যা,ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

ঢাকা, নিজস্ব প্রতিবেদক :
আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে রাষ্ট্রের প্রচলিত কাঠামো ও সংসদীয় গণতন্ত্রকে অস্বীকার করে সারাদেশে নির্বাচন বয়কটের আহ্বান জানিয়েছে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী–লেনিনবাদী)(লাল পতাকা)। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা ও শিল্পাঞ্চলে দলটির পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

লিফলেটে দলটি বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থাকে “বুর্জোয়া শ্রেণির শোষণমূলক হাতিয়ার” হিসেবে বর্ণনা করে দাবি করেছে, নির্বাচন জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার কোনো মাধ্যম নয়। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার পরিবর্তন হলেও প্রশাসন, আইন ও বিচারব্যবস্থার চরিত্র অপরিবর্তিত থাকে এবং তা একই শ্রেণির স্বার্থ রক্ষা করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে দলটি সংসদীয় গণতন্ত্র ও প্রচলিত সাংবিধানিক ব্যবস্থার বৈধতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। লিফলেটে শ্রমিক, কৃষক ও মেহনতি জনগণের স্বার্থ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয় না বলে উল্লেখ করে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

লিফলেটে আরও দাবি করা হয়, নির্বাচন, বাজেট ও উন্নয়ন পরিকল্পনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়াই একটি সীমিত শ্রেণির হাতে কেন্দ্রীভূত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক অধিকার সংকুচিত হওয়ার জন্যও বর্তমান ব্যবস্থাকে দায়ী করা হয়েছে।

সমালোচকরা বলছেন, নির্বাচন বর্জনের আহ্বান গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণকে নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং এতে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপ্রধান ও আইনসভা গঠনের প্রস্তাব বাস্তবসম্মত নয় বলেও তারা মনে করছেন।

তবে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির দাবি, নির্বাচন বয়কট কোনো তাৎক্ষণিক কৌশল নয়; বরং এটি বুর্জোয়া রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সংগ্রামের অংশ। লিফলেটে জনগণকে বিদ্যমান নির্বাচনী প্রক্রিয়া পরিহার করে বিকল্প গণক্ষমতা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

লিফলেটের শেষাংশে বলা হয়, “নির্বাচনে মুক্তি নেই”—এ বক্তব্যকে সামনে রেখে দলটি শোষণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার অবসান ঘটানোর ডাক দিয়েছে, যা মূলধারার রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button