
গভীর রাতে বাড়িতে বিকট বিস্ফোরণ। ঘরের বাইরে আসতেই আতঙ্কিত পরিবারের সদস্যরা উঠানে পড়ে থাকতে দেখেন পলিথিনে মোড়ানো দাফনের সাদা কাপড়। সাথে আতর, গোলাপজল, আগরবাতি এবং হাতে লেখা একটি চিরকুট—যাতে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আসন্ন মৃত্যুর বার্তা। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার এখলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মফিজুল ইসলাম ঢালীর বাড়িতে এমন লোমহর্ষক ঘটনাই ঘটেছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে উপজেলার এখলাশপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে এই আতঙ্কের ঘটনাটি ঘটে।
কী ছিল চিরকুটে? উদ্ধারকৃত চিরকুটে চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম মুন্নাকে উদ্দেশ্য করে নানা হুমকিমূলক কথা লেখা ছিল। দুর্বৃত্তরা লিখেছে, “তুই যা খাওয়ার খাইয়া লইস… চাইছিলাম তোরে কাফন ছাড়া দাফন দিমু, কিন্তুনা উপরের নির্দেশে তোকে কঠিন থেকে কঠিন মৃত্যু দিমু।” চিরকুটে আরও উল্লেখ ছিল, তার জানাজা মানুষ পড়তে পারবে কি না, বা বডি খুঁজে পাওয়া যাবে কি না—তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
ঘটনার বর্ণনা: চেয়ারম্যান মুন্না ঢালী জানান, তিনি পরিবার নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ বাড়ির উঠানে বিকট শব্দের বিস্ফোরণে তাদের ঘুম ভাঙে। ঘর থেকে বের হয়ে ধোঁয়া এবং বিস্ফোরিত বস্তুর আলামত দেখতে পান। একই সাথে ঝুড়িতে রাখা কাফনের কাপড় ও চিরকুট দেখে পুরো পরিবার আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তিনি একে পূর্বশত্রুতার জেরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাজ বলে সন্দেহ করছেন।
পুলিশের বক্তব্য: খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত সংগ্রহ করেছে। মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এটি ককটেল কি না তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে, তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এগুলো চকলেট বোমা বা আতশবাজি ছিল। তিনি বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। চেয়ারম্যানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিডি করার প্রক্রিয়া চলছে এবং এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”
এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।







