বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়ায় আইনি জটিলতায় বিএনপি? বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

নবগঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে যোগ দিয়ে শপথ নিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা। তবে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেননি। তাদের এই সিদ্ধান্তের ফলে কোনো আইনি বা সাংবিধানিক ব্যত্যয় ঘটবে কি না—তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আইনি বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির এই অবস্থান পুরোপুরি সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জারি করা ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’—এর আইনগত ভিত্তি দুর্বল। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতিকে অধ্যাদেশ জারির ক্ষমতা দেওয়া হলেও, তার ওপর সুস্পষ্ট সীমারেখা রয়েছে। সেই শর্ত অনুযায়ী, এমন কোনো অধ্যাদেশ জারি করা যাবে না যা বিদ্যমান সংবিধানের কোনো বিধান পরিবর্তন বা সংশোধন করে। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে শপথ গ্রহণের বিষয়টি নির্দিষ্ট করা আছে, যা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে পরিবর্তন করা প্রশাসনিক বিষয় নয়।

সংসদীয় সার্বভৌমত্ব বনাম নির্বাহী আদেশ

বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেছেন, সংবিধানই দেশের সর্বোচ্চ আইন। তাই সংবিধান পরিবর্তনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে কোনো আদেশের মাধ্যমে সাংবিধানিক বিধান পরিবর্তন করা সাংঘর্ষিক। এছাড়া, ‘পার্লামেন্টারি সার্বভৌমত্ব’ অনুযায়ী, জনগণের ভোটে গঠিত সংসদ তার নিজস্ব সাংবিধানিক এখতিয়ার অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বাধীন। আগের কোনো অধ্যাদেশ পরবর্তী সংসদের সিদ্ধান্ত ক্ষমতাকে সংকুচিত করতে পারে না।

সমাধান আসবে সংসদ থেকে

জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধিরা যেখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন, সেখানে বিএনপি তাদের ভিন্ন অবস্থানে অনড়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই পরিস্থিতির সমাধান নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংসদে বসেই সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরে থেকে করবেন। রাজপথে এই সমস্যার নিষ্পত্তিযোগ্য নয়। অন্য কোনো দলকে একই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করার সাংবিধানিক সুযোগ নেই।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:

Back to top button