
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে নতুন কৌশল নিয়ে হাজির হয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। ব্রিটিশ গণমাধ্যম আইটিভিকে (ITV) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি ভোল পাল্টে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সাথে আলোচনায় বসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে এর জন্য রেখেছেন বিশেষ শর্ত—তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে হবে।
শনিবার ভোরে প্রচারিত ওই ভিডিও সাক্ষাৎকারে জয় দাবি করেন, গত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল তিনি বা তার দল মেনে নেয়নি। নির্বাচনটিকে তিনি ‘প্রহসন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “দেশের সবচেয়ে বড় দল (আওয়ামী লীগ) এবং সব প্রগতিশীল দলকে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখা হয়েছিল। এটি এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যাতে মূলধারার বাইরে অন্য একটি দল (জামায়াতে ইসলামী) তাদের জনসমর্থনের তুলনায় সংসদে বেশি প্রভাব পায়।”
বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সাথে আলোচনার প্রসঙ্গে জয় বলেন, “আমি এমন একজন মানুষ যে সবসময় আলোচনায় বিশ্বাস করে। তা যত কঠিনই হোক বা যার সঙ্গেই হোক। এটাই আমার কৌশল। জীবনে সবসময়ই এভাবেই চলেছি।”
আওয়ামী লীগ আমলে জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ থাকার বিষয়টি তুলে ধরলে জয় বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেনি। আদালতের রায়ের কারণে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। জামায়াত তাদের গঠনতন্ত্র সংশোধন করলে আবার অংশ নিতে পারত।”
গত তিনটি নির্বাচনে কারচুপির ব্যাপক অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিষয়টি পুরোপুরি সঠিক নয়। গত তিনবারের মধ্যে দুইবার বিরোধী দল নির্বাচন বর্জন করেছিল। এমনকি বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, পর্যবেক্ষকরা সরকারের তত্ত্বাবধানে ছিলেন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় তারা আসলে কিছু পর্যবেক্ষণ করতে পারেননি।
দেশে ফেরার বিষয়ে জয়ের কণ্ঠে ছিল দৃঢ়তা। তিনি বলেন, “অবশ্যই ফিরব। দেখুন– তারেক রহমান, যিনি ‘দণ্ডিত’ হয়েছিলেন, তিনি এখন সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী। এসব পরিস্থিতি চিরস্থায়ী হয় না।”
নিজের মা শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জয় জানান, তার কোনো সন্দেহ নেই যে শেখ হাসিনা একদিন ফিরবেন। তবে এই মুহূর্তে বাংলাদেশে ফেরা তার জন্য ‘একেবারেই নিরাপদ’ হবে না।







