রোজার আগেই উত্তপ্ত মুরগির বাজার: ২০০ ছাড়াল ব্রয়লার, সাধারণের নাগালে কি থাকবে প্রোটিন?
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

রমজানের পবিত্রতা ও সংযমের মাস শুরু হওয়ার আগেই রাজধানীর সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে নিত্যপণ্যের বাজার। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের প্রোটিনের প্রধান ভরসা ব্রয়লার মুরগির দাম হঠাৎ করেই ২০০ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে।
আজ বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। মাত্র ১৫ দিন আগেও যা ছিল ১৬০-১৭০ টাকার মধ্যে। শবে বরাতের পর থেকেই বাজারে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছিল, রোজার ঠিক আগের দিন তা চরমে পৌঁছেছে।
সোনালি মুরগির দামেও উত্তাপ কেবল ব্রয়লার নয়, মধ্যবিত্তের পছন্দের তালিকায় থাকা সোনালি মুরগির দামও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। তিন-চার দিন আগেও যা ২৯০-৩১০ টাকায় পাওয়া যেত, আজ তা বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বাড়তি গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
বিক্রেতাদের যুক্তি ও আশার কথা কারওয়ান বাজারের এক বিক্রেতা জানান, প্রতি বছর রমজানের শুরুতে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে কিছুটা টান পড়ে, ফলে দাম বাড়ে। তবে তাদের দাবি, এই অস্থিরতা সাময়িক। সাধারণত সাত-আট রোজা পার হলে চাহিদা কমে আসে এবং দাম আবারও আগের জায়গায় ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। উল্লেখ্য, গত বছরের তুলনায় অবশ্য দাম কিছুটা কম; গত বছর রমজানের শুরুতে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ২২০-২৪০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।
মাছ-মাংসের বাজারেও স্বস্তি নেই মুরগির বাজারে এই আগুন লাগার ফলে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়িয়েছে গরু ও খাসির মাংসের বাড়তি দাম। বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস এখন ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুই, কাতলা বা শিং মাছের দামও সাধারণের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে।
তবে কিছুটা স্বস্তির খবর দিচ্ছে ডিমের বাজার। প্রতি ডজন ডিম এখনো ১০০ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে, যা অনেক পরিবারের জন্য শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পবিত্র রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর তদারকির দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাদের মতে, নিয়মিত বাজার মনিটরিং না করলে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটে সাধারণ মানুষের ইফতার ও সেহরি হয়ে উঠবে আরও কষ্টকর।







