
সকাল থেকেই রোদের প্রখরতা বাড়ছিল, কিন্তু তার চেয়েও বেশি বাড়ছিল মানুষের ভিড়। ষাটোর্ধ্ব আকবর হোসেন খান ফার্মগেটের খামারবাড়িতে এসে দাঁড়িয়েছিলেন সকাল ১০টার আগেই। লক্ষ্য একটাই—প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সেই বিশেষ ট্রাক, যেখানে বাজারের চেয়ে অনেক কম দামে পাওয়া যাবে গরুর মাংস। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা দুপুর ১২টা পার হলেও ট্রাকের দেখা নেই।
অবশেষে যখন দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সেই ট্রাকটি এল, ততক্ষণে চার ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। দুপুর ২টার দিকে ঘাম ভেজা শরীরে মাত্র এক কেজি মাংস হাতে পেলেন আকবর হোসেন। চেহারায় তৃপ্তির চেয়ে নাখোশ ভাবই বেশি ফুটে উঠল। তিনি ক্ষোভ নিয়ে বললেন, “৪ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে যদি মাত্র এক কেজি মাংস নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়, তবে পরিশ্রমটাই সার। অন্তত দেড় বা দুই কেজি দিলে মানুষের একটু উপকার হতো।”
অপেক্ষার প্রহর ও ক্রেতাদের ক্ষোভ
আজ থেকে রাজধানীর ২৫টি স্থানে সুলভ মূল্যে মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। খামারবাড়িতে সকাল থেকে অপেক্ষায় থাকা ক্রেতাদের অভিযোগ, ১০টায় গাড়ি আসার কথা থাকলেও তা এসেছে দুপুর সাড়ে ১২টায়। এর মাঝে অনেকেই ধৈর্য হারিয়ে ফিরে গেছেন। তেজকুনিবাজার থেকে আসা গৃহিণী নাহার বেগম বলেন, “এক কেজি মাংসের জন্য এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকাটা কষ্টের।”
জনপ্রতি সর্বোচ্চ এক কেজি মাংস দেওয়ার যে নিয়ম সরকার নির্ধারণ করেছে, তা নিয়েও ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, বড় পরিবারের জন্য এক কেজি মাংস খুবই সামান্য।
কেন এই বিলম্ব ও সংকট?
বিক্রয়কর্মী হাসিবুর রহমান জানান, আজ প্রথম দিন হওয়ায় বরাদ্দ কিছুটা কম ছিল। ফার্মগেটের এই স্পটে আজ ৭০ কেজি গরুর মাংস, ৮০ লিটার দুধ এবং ১২০০ পিস ডিম আনা হয়েছিল। সকালে মহাখালীতে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন থাকায় গাড়ি আসতে কিছুটা দেরি হয়েছে। তবে আগামীকাল থেকে ১০০ কেজির বেশি গরুর মাংস সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
যেখানে পাওয়া যাচ্ছে এই সুবিধা
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আজ সকালে মহাখালীতে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। আপাতত ২৫ রমজান পর্যন্ত রাজধানীর সচিবালয়, মিরপুর, উত্তরা, রামপুরা, মতিঝিল, বনানীসহ মোট ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে।
পণ্যমূল্য এক নজরে:
গরুর মাংস: ৬৫০ টাকা (প্রতি কেজি)
ডিম: ৯৬ টাকা (প্রতি ডজন)
দুধ: ৮০ টাকা (প্রতি লিটার)
ব্রয়লার মুরগি: ২৪৫ টাকা (প্রতি কেজি)
রমজান মাসে সাধারণ মানুষের আমিষের চাহিদা মেটাতে সরকারের এই উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও, অব্যবস্থাপনা আর দীর্ঘ অপেক্ষার ভোগান্তি ক্রেতাদের আনন্দকে ম্লান করে দিচ্ছে।







