
নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান সরাসরি দেখার ইচ্ছে ছিল তাঁদের। কিন্তু পাসের অভাবে সংসদ ভবনে ঢোকা হয়নি। তাই রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে দাঁড়িয়ে বড় পর্দায় শরিক হয়েছেন নতুন সরকারের যাত্রার সঙ্গী হতে। বলছিলাম ইমরান হোসেন ও মিজানুর রহমানের কথা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যাঁরা নিজেদের একটি করে চোখ উৎসর্গ করেছেন ফ্যাসিবাদের পতন নিশ্চিত করতে।
মঙ্গলবার বিকেলে নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পর, বিজয়ের আমেজের চেয়েও যেন তাঁদের কণ্ঠে বেশি ঝরে পড়ল দুর্দশা আর সুচিকিৎসা না পাওয়ার তীব্র আক্ষেপ।
শরীরজুড়ে স্প্লিন্টার, পচে যাচ্ছে চোখ
ইমরান হোসেন, যিনি ১৮ জুলাই উত্তরার আজমপুরে পুলিশের গুলিতে বাঁ চোখ হারান, তিনি এখনো ছররা গুলির স্প্লিন্টার বয়ে বেড়াচ্ছেন শরীরে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে ইমরান বলেন, “আমরা মাঠে না নামলে, শহীদেরা জীবন না দিলে আজ এই সরকার আসত না। নতুন সরকার যেন আমাদের আত্মত্যাগকে ভুলে না যায়। ডাক্তার বলেছে আমার চোখ পচে যাচ্ছে, এখনই তুলে ফেলতে হবে। কিন্তু যথাযথ চিকিৎসা তো পাচ্ছি না।”
শিক্ষার আলো থেকে ছিটকে পড়া
মিজানুর রহমান ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে চোখ হারান। তিনিও একই সুর তুললেন। এই দুই যোদ্ধা ছাত্র হলেও আন্দোলনের পর থেকে আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছেন না। নিজেদের সুস্থতার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিক হিসেবে সুন্দরভাবে বাঁচার নিশ্চয়তা চেয়েছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত যথাযথ পুনর্বাসন বা চিকিৎসা সহায়তা তাঁরা পাননি।
নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি তাঁদের আকুল আবেদন, আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুততম সময়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক।







