
ই-সিগারেট বা ভ্যাপ (Vape) বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও এটি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সাধারণ সিগারেটের বিকল্প হিসেবে অনেকে একে বেছে নিলেও চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে এটি কোনোভাবেই নিরাপদ নয়।
ই-সিগারেটের স্বাস্থ্যঝুঁকি
১. ক্ষতিকারক রাসায়নিকের উপস্থিতি
অনেকে মনে করেন ই-সিগারেটে শুধু পানির বাষ্প থাকে, কিন্তু বাস্তবে এর তরলে (E-liquid) নানা ধরনের বিপজ্জনক উপাদান থাকে:
-
নিকোটিন: এটি অত্যন্ত আসক্তি তৈরি করে এবং মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা দেয়।
-
ফরমালডিহাইড: এটি একটি ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান।
-
অ্যাক্রোলিন: এটি মূলত আগাছানাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা ফুসফুসের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।
-
ভারী ধাতু: এতে নিকেল, টিন ও সিসার মতো ধাতব কণা পাওয়া গেছে যা শরীরের জন্য বিষাক্ত।
২. ফুসফুসের জটিলতা (EVALI)
ই-সিগারেট ব্যবহারের ফলে EVALI (E-cigarette or Vaping Use-Associated Lung Injury) নামক এক ভয়াবহ ফুসফুসের রোগ হতে পারে। এর ফলে ফুসফুসে প্রদাহ হয়, শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় এবং অনেক ক্ষেত্রে ফুসফুস অকেজো হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
৩. হৃদরোগের ঝুঁকি
ই-সিগারেটের নিকোটিন রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং হৃদস্পন্দনের গতি বৃদ্ধি করে। দীর্ঘমেয়াদে এটি ধমনীর ক্ষতি করে এবং হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
৪. মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা
বিশেষ করে ২৫ বছরের কম বয়সী তরুণদের জন্য এটি বেশি ক্ষতিকর। ই-সিগারেট ব্যবহারের ফলে মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়, মেজাজ খিটখিটে হয় এবং শেখার ক্ষমতা হ্রাস পায়। এটি দীর্ঘমেয়াদী বিষণ্ণতা বা উৎকণ্ঠার (Anxiety) কারণ হতে পারে।
৫. ‘পপকর্ন লাং’ (Popcorn Lung)
ই-সিগারেটের ফ্লেভারে অনেক সময় ডায়াসিটিল নামক রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়। এটি ফুসফুসের ক্ষুদ্র শ্বাসনালীগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘পপকর্ন লাং’ নামে পরিচিত। এই রোগটি একবার হলে তা আর নিরাময়যোগ্য নয়।
ভুল ধারণা বনাম বাস্তবতা
| ভুল ধারণা | বাস্তবতা |
| এটি সাধারণ সিগারেটের চেয়ে ১০০% নিরাপদ। | এটি নিরাপদ নয়, বরং এতে ভিন্ন ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক থাকে। |
| এটি ধূমপান ছাড়তে সাহায্য করে। | অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষ উল্টো নিকোটিনে আরও বেশি আসক্ত হয়ে পড়ে। |
| এতে শুধু সুগন্ধি ধোঁয়া থাকে। | এই ধোঁয়া আসলে অ্যারোসল (Aerosol), যা ফুসফুসের গভীর কোষে ক্ষত তৈরি করে। |
ই-সিগারেট কোনো ফ্যাশন বা সিগারেটের নিরাপদ বিকল্প নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ই-সিগারেটকে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। দীর্ঘমেয়াদী পঙ্গুত্ব বা অকাল মৃত্যু এড়াতে ই-সিগারেট থেকে দূরে থাকা অপরিহার্য।







